

তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় গত এক মাস ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদটি শূন্য রয়েছে। এ অবস্থায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানিয়া আক্তার লুবনাকে ভারপ্রাপ্ত ইউএনওর দায়িত্ব দিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আর্থিক ক্ষমতা (Financial Authority) প্রদান না করায় গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফাইল নিষ্পত্তি হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিসিএস ৩৬তম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান চলতি বছরের ৩ মে তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাস তিন দিন পর তার বদলির আদেশ হয়। গত ৬ জুলাই তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানিয়া আক্তার লুবনার কাছে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন। এরপর থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত টানা এক মাস ধরে ইউএনও পদটি শূন্য রয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, এ সময়ের মধ্যে তিনজন কর্মকর্তাকে তিতাস উপজেলায় পদায়ন করা হলেও তারা কেউ যোগদান করেননি। কেউ বর্তমান কর্মস্থলেই থেকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ অন্যত্র পদায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন।
উপজেলা পরিষদের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "একটি পরিবারে যেমন অভিভাবক না থাকলে সবাই অসহায় বোধ করে, তেমনি তিতাস উপজেলায় ইউএনও না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমেও সেই শূন্যতা অনুভূত হচ্ছে।"
এদিকে ভারপ্রাপ্ত ইউএনওকে আর্থিক ক্ষমতা না দেওয়ায় বিভিন্ন উন্নয়ন ও প্রশাসনিক ফাইল দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি কয়েকটি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলার ঘাটতিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিতাস উপজেলায় কবে নাগাদ নতুন ইউএনও যোগদান করবেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, "একজন কর্মকর্তাকে তিতাসে পদায়ন করা হয়েছে। তিনি বর্তমান কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন, তবে এখনও তিতাসে যোগদান করেননি। আজই আমি এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি নোট পাঠাব।"
