

নজরুল ইসলাম নাহিদ, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: যে স্ত্রী-সন্তানের সুখের জন্য পরিবার ছেড়ে দীর্ঘ ১২ বছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে প্রবাসে কাটিয়েছেন জামাল উদ্দিন, সেই স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধেই অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত শনিবার (০১ আগষ্ট) দিবাগত রাতে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালমেঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা যায়, উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে জামাল উদ্দিন দীর্ঘ ২৫ বছর আগে নিজ গ্রাম ছেড়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি দক্ষিণ পাড়া, ইয়ার উদ্দিন মোড় এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং সেখানে প্রায় ১২ বছর কর্মরত ছিলেন। তিনি কয়েক বছর আগে কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় আট মাস আগে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসা ও দেখভাল নিয়ে পরিবারে অবহেলার অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের দাবি, শনিবার (০১ আগষ্ট) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় জামাল উদ্দিনকে তার পৈতৃক ভিটার পাশের সড়কে ফেলে রেখে যান তার স্ত্রী রিনা আক্তার ও সন্তানরা। পরে রাতে বৃষ্টি শুরু হলে তিনি মানবেতর অবস্থায় পড়ে থাকেন। পরদিন সকালে জামাল উদ্দিনের ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশাররফ মেম্বার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর স্থানীয়রা এগিয়ে এসে জামাল উদ্দিনকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।
জামাল উদ্দিনের বড় ভাই সোহরাব আলী জানান, আমার ভাইকে আমি অনেক আগেই সাবধান করেছিলাম শ্বশুরবাড়িতে না যেতে। কিন্তু সে এলাকার কারও কথা শোনেনি। তিনি দাবি করেন, প্রবাস জীবনে উপার্জিত সব টাকা তিনি তার স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, আমার স্বামীকে আমি কয়েক মাস আগে ডিভোর্স দিয়েছি। তার সাথে এখন আর আমার কোন সম্পর্ক নেই। রাতের বেলায় তিনি কিভাবে ওই এলাকায় পৌঁছলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম জানান, ইতোমধ্যে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
