

নুরুল ইসলাম আসাদ, উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া বাজার এলাকায় খোলা আকাশের নিচে সরকারি দুস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত শত শত কম্বল বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার পাশে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হলেও টানা বর্ষণে পানি জমে কম্বলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সরকারি সম্পদের এমন অব্যবস্থাপনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর প্রশাসন ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আওতায় এনেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর প্রায় ১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের উত্তর পাশে রাস্তার ধারে বিপুল পরিমাণ কম্বল পড়ে থাকতে দেখেন। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, মৃত বাদশা হাওলাদারের ছেলে শাওন সজলের ব্যবহৃত একটি গোডাউন থেকে কম্বলগুলো বের করে ওই স্থানে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন গোডাউনে সংরক্ষিত থাকার পর সম্প্রতি সেগুলো বাইরে এনে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হলেও টানা বৃষ্টির কারণে কম্বলগুলো পানির নিচে তলিয়ে ভিজে যাচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
স্থানীয়দের দাবি, কম্বলগুলোর মোড়কে সরকারি সিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, গত বছরের ৫ আগস্টের আগেই তৎকালীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার মাধ্যমে সরকারি গুদাম থেকে এসব কম্বল সরিয়ে ওই গোডাউনে রাখা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।
অভিযোগের বিষয়ে শাওন সজল বলেন, গোডাউনটি মূলত তার ছোট ভাই আতিকুরের, যিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন ঘরটি পরিত্যক্ত থাকায় স্থানীয় একটি ক্লাব সংস্কারকাজ চলাকালে তাদের সদস্যরা সেখানে কম্বলগুলো রেখেছিলেন। পরে ঘরটি ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে তারা কম্বলগুলো বের করে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখে যান। এসব কম্বলের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন দ্রুত নড়েচড়ে বসে। উজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মণ্ডল বলেন, বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা পেলেই পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বলেন, “গত ৫ আগস্টের আগে কার মাধ্যমে বা কী উদ্দেশ্যে সরকারি কম্বলগুলো ওই গোডাউনে রাখা হয়েছিল এবং পরে কেন সেগুলো রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। সরকারি সম্পদ দ্রুত উদ্ধার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ার আগেই কম্বলগুলো উদ্ধার করে সরকারি হেফাজতে নেওয়া হোক এবং প্রকৃত দুস্থ মানুষের মধ্যে যথাযথভাবে বিতরণ করা হোক।
