

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটে পুলিশের অভিযানে চুরি ও ছিনতাই হওয়া আটটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং ১১টি স্যালো মেশিন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চুরি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাতে বাগেরহাট শহরের বিভিন্ন গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (০৩ আগস্ট) বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন, বাগেরহাট পৌরসভার বাসাবাটি এলাকার মোতালেব হাওলাদারের ছেলে মো. ফারুক হাওলাদার (২৮), একই এলাকার ইউনুস শিকদারের ছেলে শাহ আলম (২৯), পৌরসভার খারদ্বার এলাকার আব্দুল গনির ছেলে আব্দুল হালিম (৪৫) এবং সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের নয়ন সরদারের ছেলে আব্দুল্লাহ সরদার (২১)।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ তদন্ত জোরদার করে। গত ১২ জুলাই বাগেরহাট সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়েরের পর তদন্তে নেমে পুলিশ রোববার রাতে ফারুক হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি গ্যারেজ থেকে তিনটি চোরাই অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়। ওই অটোরিকশার মধ্যে দুটির মালিকানা দাবি করা দুই ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শহরের আরও একটি গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ১১টি স্যালো মেশিন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অটোরিকশা ও স্যালো মেশিনগুলোর বৈধ মালিকানার কোনো কাগজপত্র কিংবা ক্রয়ের প্রমাণ গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেখাতে পারেননি বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, জেলায় ইজিবাইক চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের আরও কয়েকজন সদস্যের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে গ্রেপ্তার আব্দুল হালিম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, আমি প্রায় দুই যুগ ধরে ভাঙারি (পুরোনো লোহার যন্ত্রাংশ) কেনাবেচার ব্যবসা করি। পাশাপাশি আমার নিজের সাতটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে, যেগুলো ভাড়ায় চলে। এগুলো আমি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছি। অটোরিকশার নিবন্ধনের সরকারি ব্যবস্থা না থাকায় আমার কাছে বৈধ কাগজপত্র নেই। তবে আমি কোনো অটোরিকশা চুরি করিনি। পরিশ্রমের টাকায় এগুলো কিনেছি।
