ঢাকা
logo
প্রকাশিত : July 21, 2026

যমুনার ভাঙন তান্ডবে কাজিপুরের চরগিরিশ ইউনিয়নবাসী, আতঙ্কে কাটাচ্ছে নির্ঘুম রাত

কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: উজান থেকে নেমে আসা পাড়াড়ি ঢল আর বৃষ্টির কারণে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে হুহু করে। আর পানি বাড়ার সাথে শুরু হয়েছে নদী ভাঙন। বিশেষ করে যমুনার চরাঞ্চলে অবস্থিত চরগিরিশ ইউনিয়নের ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙনের তীব্রতায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চরগিরিশ ইউনিয়নবাসী।

স্থানীয়দের দাবি, গত এক মাসে চরগিরিশ ফ্লাড সেন্টার বাজার থেকে ভেটুয়া এলাকা পর্যন্ত প্রায় দুই থেকে তিন শতাধিক বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কয়েকটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসা ও বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ঐতিহ্যবাহী এই জনপদ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অশীতিপর ছকিনা বিবিকান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “চোষা নাইগা আমাগোরে বাড়ির ভিটা নদীর মধ্যে গেলো। খালি চায়া থাইকা দেইখলাম। এহোন কি করমু, কনে থাকমু?”

ছালাল গ্রামের কৃষক রইচ উদ্দিন বলেন, “এবার প্রায় দেড়মাস যাবৎ আমাদের এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আমাদের এমপি সেলিম রেজা ভাঙন এলাকা দেখে গেছেন। আশা করি এলাকার অবশিষ্ট অংশটুকু রক্ষায় সরকার ব্যবস্থা নেবেন- এই দাবী জানাচ্ছি।”

চরগিরিশ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আল আমিন সরকার বলেন, “যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয়ে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। নদী এখন বিদ্যালয়ের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা প্রয়োজন।”

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, “ভাঙন এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলছে। তবে চরাঞ্চলের এ ভাঙন রোধে বড় ধরনের প্রকল্প প্রয়োজন। বিষয়টি সমীক্ষা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”

এদিকে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা হতে ৩টি বরাদ্দতে ১২টি ইউনিয়নের জন্য মোট ৮৫ (৫০+৩০+৫) মে.ট. চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ ও ৩০ মে.ট. উপজেলার সকল ইউনিয়ন জন্য এবং ৫মে.ট. শুধুমাত্র চরের ৬টি ইউনিয়নের জনএছাড়া আরও বরাদ্দ শিঘ্রই বিতরণ করা হবে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram