

মাসুদ রানা, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় টানা তিন দিনে তিনটি স্থানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা জনমনে গভীর আতঙ্কের ছায়া ফেলেছে। ঈদের আনন্দের মুহূর্তে এসব আগুন কেড়ে নিয়েছে মানুষের স্বপ্ন, জীবিকা ও শেষ সম্বল—রেখে গেছে শুধু ছাই আর দীর্ঘশ্বাস।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় প্রাণী হতাহত হয়েছে, পুড়ে গেছে দোকান, বসতঘর ও মূল্যবান সম্পদ। স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুততায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ছিল ভয়াবহ।
ঈদুল ফিতরের দিন শনিবার (২১ মার্চ) রাতে উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া এলাকার টুপারমোড়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে একটি মার্কেটে। চোখের পলকে পুড়ে যায় ১০টি দোকান। বহু বছরের কষ্টে গড়ে তোলা ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
এরপর ঈদের পরদিন রোববার (২২ মার্চ) ভোরে একই ইউনিয়নের খামার বিষ্ণুগঞ্জ এলাকার জোলাপাড়ায় সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে কয়েলের আগুন থেকে ঘটে আরেকটি হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। আগুনে পুড়ে মারা যায় ৩টি গরু ও ২টি ছাগল, সঙ্গে ছাই হয়ে যায় একটি মোটরসাইকেল। এক ভোরেই সর্বস্ব হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে পরিবারটি।
সবশেষ সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের পাকেরহাট জিয়া মাঠ এলাকায় নাসিরের বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের আগুনে ঘরের সবকিছু পুড়ে যায়। মুহূর্তে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ে বসতভিটা ও প্রয়োজনীয় মালামাল।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনের মার্কেট অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ টাকা। পরদিন কয়েলের আগুনে ক্ষতি হয় আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সর্বশেষ ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
খবর পেয়ে প্রতিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অয়ন ফারহান শামস। তিনি ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
খানসামা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আবুল কালাম আজাদ জানান, দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং কয়েক লক্ষ টাকার মালামাল উদ্ধার করা গেছে। তিনি ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক সংযোগ ও আগুন ব্যবহারে আরও সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া। তিনি আর্থিক সহায়তা, খাদ্যদ্রব্য ও বস্ত্র বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, এসব ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। সচেতনতা ও সতর্কতা বাড়াতে পারলেই এমন দুর্ঘটনা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
একটির পর একটি অগ্নিকাণ্ড খানসামার মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঈদের আনন্দের দিনে যে আগুন নেমে এসেছিল, তার রেশ এখনো কাটেনি—পুড়ে যাওয়া ঘর আর নীরব চোখের জলই তার সাক্ষ্য বহন করছে।
