

শরীফ আল-আমিন, তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি: চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ, নিরবে তাকিয়ে আছেন খরস্রোতা উত্তাল মেঘনার জলরাশির দিকে। যাদের ঘরে নুন আনতে পান্তা পুড়ায় তাদের ঘরে ঈদের আনন্দ যেনো অবাস্তব কল্পনা মাত্র। ইলিশ রক্ষায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর এমনই দৃশ্য দেখা যায় তজুমদ্দিনের মেঘনা নদীর তীরজুড়ে।
তজুমদ্দিনের স্লুইজগেট ঘাট, চৌমুহনী ঘাট, গুরিন্দা বাজার ঘাটসহ উপজেলা কয়েকটি মাছ ঘাটগুলোতে দেখা যায়, নেই ক্রেতা বিক্রেতাদের সমাগম। যেন চলছে সুনসান নিরবতা। নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিন থেকেই মাছ ঘাটগুলোতে সারি সারি নৌকা নোঙর করা। কেউ কেউ নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে অলস সময় পার করলেও অনেকেই আবার ক্ষতিগ্রস্থ নৌকা, জাল মেরামত করে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একদিকে আড়ৎদারের কাছ থেকে নেওয়া দেনার চাপ অন্যদিকে ইলিশের অভয়াশ্রম রক্ষায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে মাছ ধরতে না পারায় আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে হতাশায় পড়েছেন এ উপজেলার প্রায় ২০ হাজার জেলে। মেঘনায় ইলিশ মাছ শিকার, পরিবহন, মজুদ নিষিদ্ধ হওয়ায় ঈদের আগেই দূর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন জেলেপাড়ার মানুষ। ফলে এবার মেঘনা পাড়ের জেলে পল্লীতে নেই ঈদের আনন্দ।
জেলে জসিম মাঝি জানান, নদীতে মাছ কম পেয়েছি এ বছর। দাদনদারদের থেকে নেওয়া আগের দেনা শোধ করতে পারিনি। এখন আবার দুই মাস কাজ বন্ধ থাকবে। এ অবস্থায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।
একই এলাকার গুরিন্দা এলাকার খোকন মাঝি জানান, রমজান চলছে, সামনে ঈদ আবার এনজিওর কিস্তির চাপ। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকেই জেলেদের এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাল দেয় সরকার এমন প্রশ্নে জেলেরা জানান, সরকার চাল দেয় ঠিক আছে, শুধু চাল দিয়ে তো আর সংসার চলেনা। নিষেধাজ্ঞা মানেই আমরা বেকার হয়ে পড়েছি।
তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য অফিস সুত্রে জানা যায়, তজুমদ্দিন উপজেলায় ১৯ হাজার ৯ শত ২৭ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। যাদের আয়ের প্রধান উৎস হলো নদীতে মাছ ধরা। কিন্তু জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস নদীতে সকল ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো:আমির হোসেন জানান, অভিযান সফল করতে ইতোমধ্যে প্রচার চালানো হয়েছে। বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ চলমান। এছাড়া ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জেলেদেরকে অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে, কখন এই খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হবে তার কোনো সদুত্তর নেই মৎস্য কর্মকর্তার কাছে।
