

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় আধুনিক মাতৃস্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য স্থাপিত ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি এক যুগেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। জনবল সংকট আর প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে মাতৃসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গৌরীপুরবাসী। তবে এর মধ্যেই গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই কেন্দ্রটিতে ২৬৩ জন প্রসূতি মায়ের স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) সম্পন্ন হয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতার মাঝেও আশার আলো দেখাচ্ছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের এপ্রিলে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালের অক্টোবরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল ও আবাসিক ভবন নির্মাণ শেষে স্বাস্থ্য দপ্তরে তা হস্তান্তর করা হয়। ২০১৭ সাল থেকে নামমাত্র ইনডোর (আন্তঃবিভাগ) সেবা শুরু হলেও অ্যানেসথেসিয়া ও গাইনি বিশেষজ্ঞের অভাবে আজও অপারেশন থিয়েটারটি (ওটি) চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে সিজারিয়ান সেবার প্রয়োজন হলে দরিদ্র রোগীদের বাধ্য হয়ে ময়মনসিংহ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা জেলা শহরে রেফার করতে হয়।
হাসপাতালটিতে জনবল কাঠামোও অত্যন্ত নাজুক। ২ জন ডাক্তারের মধ্যে আছেন মাত্র ১ জন, ৪ জন পরিদর্শকের জায়গায় কর্মরত ২ জন, আয়া ও নৈশপ্রহরীর পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য, ১ জন ফার্মাসিস্টের নিয়োগ থাকলেও তিনি বগুড়ায় এবং ১জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ময়মনসিংহে প্রেষণে (সংযুক্তিতে) কর্মরত আছেন। এছাড়াও চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পিয়ন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে কোনোরকমে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তিন তলাবিশিষ্ট এই কেন্দ্রের নিচতলায় বহির্বিভাগের চিকিৎসা চললেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় অবস্থিত অপারেশন থিয়েটার, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ডেলিভারি রুমগুলো আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে পূর্ণাঙ্গ সচল নয়। আবাসিক ভবনটি অব্যবহৃত থাকায় সেখানে মাদকসেবী ও চোরদের উপদ্রব বেড়েছে। মাদকসেবীরা ভবনের গ্রিল, দরজা-জানালা ও শৌচাগারের ফিটিংস চুরি করে নিয়ে গেছে। আবাসিক সুবিধা না থাকায় ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডাঃ তাহসিন কামাল প্রমী জানান, "এখানে আমরা ২৪ ঘণ্টা নরমাল ডেলিভারি সার্ভিস দিচ্ছি। কিন্তু জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে ডেলিভারি করাতে চরম বিঘ্ন ঘটে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় আমরা সিজার করতে পারছি না।" তিনি আরও জানান, আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা গত ২৫ মাস ধরে কোনো বেতন পাচ্ছেন না, যা অত্যন্ত অমানবিক। এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।
উপজেলার একমাত্র আধুনিক এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়ে গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ফকির বলেন, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালুর জন্য আমরা মানববন্ধন করেছিলাম। তারপর সেটি সীমিত আকারে চালু হলেও এক যুগে তা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। দ্রুত এটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে দাবী জানাচ্ছি।
