

সোমবার কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকাল। বরগুনা পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল কাদের সড়কে তখন নীরবতা। হঠাৎ এয়ারগানের বিকট শব্দে ভেঙে যায় সেই নিস্তব্ধতা।
লক্ষ্যবস্তু মানুষ নয়, একটি নিরীহ ডাহুক।
মুহূর্তের মধ্যে প্রাণহীন হয়ে পড়ে পাখিটি। পাশে পড়ে থাকে আরো কয়েকটি শিকার। এক ব্যাগভর্তি নীরব মৃত্যু।
পাখি শিকারের এই দৃশ্যটি চোখে পড়ে দুই সাংবাদিকের।
বুঝে ওঠার আগেই এয়ারগান আর ব্যাগভর্তি পাখি নিয়ে মোটরসাইকেলে চেপে সটকে পড়েন দুই শিকারি। তারা দুই শিকারি আর কেউ নন, তারা বরগুনা জেলা কারাগারের কর্মরত দুই কারারক্ষী। তারা হচ্ছেন—মো. হাফিজুর রহমান ও মো. রফিকুল ইসলাম।
বরগুনা শহরে এ দৃশ্য নতুন নয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দুই কারারক্ষী প্রায়ই এয়ারগান হাতে পাখি শিকারে বের হন। বিশেষ করে শীত এলেই তাদের তৎপরতা বাড়ে।
আশ্চর্যের বিষয়, মো. রফিকুল ইসলামের নাম আগেও পাখি শিকারির তালিকায় উঠে এসেছিল। সাংবাদিকদের বাধার মুখে পড়ে তখন শিকারি রফিকুল ইসলাম তার ভুল স্বীকার করেছিলেন। প্রকাশ্যে তিনি বলেছিলেন, আর কখনো পাখি শিকার করবেন না।
বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন স্পষ্ট। পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন ভাঙলে শাস্তি অনিবার্য। কিন্তু যারা নিজেরাই আইনের প্রয়োগকারী, তাদের হাতে আইন ভাঙলে বিচার কি সাধারণের মতোই হবে? নাকি পরিচয়ের ছায়ায় সব কিছু হালকা হয়ে যাবে?
এই ঘটনায় স্থানীয় পরিবেশকর্মী মুশফিক আরিফ বলেন, ‘অভিযুক্ত দুই কারারক্ষীকে শুধু শাস্তি দিলেই হবে না, তাদেরকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের রক্ষক হয়ে যারা আইন ভাঙেন, তাদের জন্য শাস্তি আরো কঠোর হওয়াই স্বাভাবিক।’
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার খবর তিনি পেয়েছেন। অভিযুক্ত দুই কারারক্ষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
