

মো: মোকাররম হোসাইন, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে এমন কথা বলা হলেও জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় বাস্তবতা তার উল্টা। এ উপজেলার সার ডিলারদের কাছে কৃষকরা জিম্মি হয়ে আছেন। সরকারি মূল্য তালিকাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কৃষকদের কাছে বেশি দামে সার বিক্রি করেছেন ডিলাররা। এতে ফসল উৎপাদন করতে ভোগান্তিসহ বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে কৃষকদের। তবে অভিযোগ উঠেছে সারের দাম বেশি নেয়া রোধে প্রশাসনের সহযোগিতা মিলছে না।
কালাই কৃষি সম্প্রাসরণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিসিআইসি সার ডিলার ১১ জন এবং বিএডিসি ডিলার ২৫ জনসহ মোট ৩৬ জন ডিলার রয়েছে। এসব ডিলারদের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও কৃষক সরাসরি ন্যায্যমূলো সার পাওয়ার কথা। কিন্তু তা না হয়ে ডিলারদের কাজ থেকে বেশি মূল্যে কৃষক ও খুচরা বিক্রেতাদের সার কিনতে হচ্ছে। আমন মৌসুমে পেরিয়ে এবার আলু উৎপাদনের জন্য ও সারের দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মূলত উপজেলার ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের দোকানে দোকানে ঘুরেও কোথাও ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। তবে সার ক্রয়ের সময় বিক্রি রশিদ দেয়া হচ্ছে না, কৃষক রশিদ চাইলেই সার নেই এবং বিক্রি হবে না বলে হুমকি দিচ্ছে ডিলাররা। এছাড়া সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রিতে ডিলারদের বাধ্য করতে চোখে পড়ার মতো তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। প্রশাসনের এমন নীরব ভূমিকায় আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয় ডিলাররা।
কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সারের দাম সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতিবস্তায় (৫০ কেজি) অতিরিক্ত চার’শ থেকে পাঁচ’শ টাকা বেশি নিচ্ছেন সার ব্যবসায়ীরা। অনেক ক্ষেত্রে দুই/একজন ডিলারের নিকট সঠিক দামে সার পাওয়া গেলেও সাথে নিতে হচ্ছে বেশি দামের প্যাকেটজাত দস্তা ও বোরন জৈব সার। যেগুলো ফসলের তেমন একটা উপকারে আসেনা। তারপরও সার পাওয়ার স্বার্থে এসব প্যাকেটজাত দস্তা ও বোরন জৈব সার ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।
কালাই উপজেলার হাতিয়র গ্রামের কৃষক তাজমহল হোসেন বলেন, আট বিঘা জমিতে আলু চাষ করার জন্য সকল প্রস্তুতি শেষ করেছি। রোপণের জন্য শ্রমিকদের চুক্তিও দিয়েছি। সার কিনতে গিয়ে এক বস্তা টিএসপি ও এক বস্তা ডিএপি সারে সরকারি মূল্য ২ হাজার ৫০ টাকা, তারা নিচ্ছেন ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা। বাধ্য হয়ে বেশি দামেই সার কিনে আলু রোপণ করছি।
এ উপজেলার আরেক কৃষক রাশিদুল আলম বলেন, কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন দোকানে চেষ্টা করে ন্যায্য দরে সার কিনতে পারিনি। শেষে কালাই বাজারের এক ডিলার সরকারি দামে সার দিতে রাজি হলেও প্যাকেটজাত জৈব সার নিতে হবে। বাধ্য হয়ে সার পাওয়ার আশায় জৈব সারও কিনতে হয়েছে। সার না পেলে আলুর ফসল ফলানো সম্ভব হতো না।
কালাই উপজেলার নুনুজ বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এলাকায় সারের চাহিদা অনুপাতে সরবরাহ পাচ্ছি না। বাহির থেকে সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তাই দাম একটু বেশি নিচ্ছি। আপনি যতই বলেন, মৌসুমে লাভ না করলে ব্যবসা টিকে থাকবে কিভাবে।
এ উপজেলার হাতিয়র বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মূল ডিলারের নিকট থেকেই বেশি দামে সার ক্রয় করেছি, এখন কৃষক পর্যায়ে কিভাবে কম দামে সার দিব। বাধ্য হয়ে আমার লাভসহ সার বিক্রি করছি। তাতে দাম বাড়লো না কমলো তা আমার দেখার বিষয় নয়।
জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রওনকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ব্যাঙের ছাতার মত যেভাবে ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। তাতে বাজার এলোমেলো তো হবেই। যতই হাত বদল হবে, ততই দাম বাড়বে। আমরা যারা ডিলার পর্যায়ে আছি, তারা সরাসরি কৃষকের কাছে সার বিক্রি করছি।
কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হারুনুর রশিদ বলেন, আমাদের প্রতিনিধি নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছেন। এরপরও কেউ বেশি দামে সার বিক্রি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

