

অন্যান্য বছরে তুলনায় এবার দেরিতে হলেও পঞ্চগড়ে শীত নেমেছে। কয়েক দিন ধরে জেলাটিতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। সে ধারাবাহিকতায় রোববার (৩ে০ নভেম্বর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
গত ১০ দিন ধরে পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই উঠানামা করছে।পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে।তবে সকাল আটটার পর ঝলমলে রোদে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। ২৮ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হিসেবে।
আগামী সপ্তাহেও সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পরিবর্তন আসতে পারে জানিয়ে জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে পঞ্চগড় জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং ডিসেম্বর মাসে জুড়ে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
জানা গেছে, জেলায় বিকেল থেকে ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে, রাতের কোনো কোনো সময় শীত বেশি মনে হচ্ছে। সকাল আটটা পর্যন্ত শীতের আমেজ থাকছে। তবে আসার কথা হলো সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হলেও সকাল আটটার পর থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত দিনের বেলা প্রখর রোদে তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে এখনো শীতের তীব্রতা শুরু হয়নি।
তবে দিনে ও রাতে আবহাওয়ার এই বিরূপ আচরণে বাড়ছে শীতজনীত রোগ। শীতজনিত বিভিন্ন রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। জেলার সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগির সংখ্যা বাড়ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তনজনিত অ্যালার্জিতে রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। এই সময়টাতে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, দেশের উত্তরের জেলা হিমালয় কন্যাখ্যাত পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলাগুলোতে মূলত কার্তিকের শুরু থেকেই শীতের আগমন হয়। আর কার্তিকের শেষ থেকে শীত জমে উঠে। কিন্তু কার্তিক পেরিয়ে অগ্রহায়ণেও সেভাবে শীতের দেখা মিলছে না।
পরিবেশবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঋতু বৈচিত্র্যের এমন পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন তারা। এরই প্রভাবে শীতের সময়ের কাঙ্ক্ষিত শীতের দেখা মিলছে না।

