

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের কুশিউড়া গ্রামে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। একমাত্র সন্তানের নেশাগ্রস্ত জীবনের কাছে পরাজিত হয়েছেন ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মা। গাঁজার টাকার জন্য ছেলের নিত্যদিনের নির্যাতনে ঘরছাড়া হয়েছেন অসহায় বিধবা সালেহা বেগম। বিচার পাচ্ছেনা পুলিশের কাছেও। নিরাপত্তাহীনতায় এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
বিধবা সালেহা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমার একমাত্র সন্তানটি বখাটে ও গাঁজাখোর। এ কারণে তার স্ত্রী দুই সন্তানসহ বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। এখন তাকে গাঁজার টাকা দিতে না পারলে সে আমাকে মারধর করে। আমি পুলিশের শরণাপন্ন হয়েও কোন প্রতিকার নেই। সে এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার অত্যচারে বাড়িঘরে থাকতে পাচ্ছি না। পুলিশে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তার বলেছেন এটা তাদের কাজ নয়, তাকে ধরে কোর্টে পাঠান। পুলিশের কাছেও কোন সহায়তা পাচ্ছি না, এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সালেহা বেগম স্বামী হারানোর পর থেকে একমাত্র ছেলে আব্দুস সালামকে নিয়েই সংসার করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আব্দুস সালাম নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। গাঁজার টাকা না দিলে মায়ের উপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। একসময় সেই নির্যাতন এতটাই বেড়ে যায় যে, সালেহা বেগম বাধ্য হয়ে নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
এলাকাবাসীর দাবি, আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে আগেও স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার হয়েছে। এমনকি কয়েক দফা তাকে জেলহাজতেও পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু মুক্তির পর সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এখন দিনরাত মাদকাসক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মাকে হত্যার হুমকিও দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকার কয়েকজন প্রবীণ জানান, সালেহা বেগম আমাদের গ্রামের সবার শ্রদ্ধার মানুষ। কিন্তু এখন তার কষ্টের শেষ নেই। এমন অন্যায়ের বিচার না হলে মানবতা হারিয়ে যাবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, একজন বৃদ্ধা মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়েরই নৈতিক দায়িত্ব।
দোয়ারাবাজার থানা ও ইউনিয়ন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ— এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে আর কোনো মা এমন পরিস্থিতির শিকার না হন।
মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবারকেও ধ্বংস করে দেয়। সমাজে মানবতা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের সকলেরই দায়িত্ব নিতে হবে।
জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার থানার ওসি জাহিদুল হক বলেছেন, অভিযোগে বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মহিলার পুত্র মাদকাসক্ত কি না তা দেখে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা দরকার, আর যদি এমনিতে মাকে মারধর করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

