

নুরুল ইসলাম আসাদ, উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ২২টি মাদ্রাসার সুপারদের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর উদ্যোক্তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আলী সুজা।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম খান এ উদ্যোগকে যুগান্তকারী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “উজিরপুরের ইউএনও’র মতো যদি দেশের প্রতিটি উপজেলায় এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ফলাফলের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং শিক্ষার মানও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।”
ইউএনও আলী সুজা জানান, অতীতে উজিরপুর শিক্ষার আলো ছড়ানো উপজেলা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার গুণগত মান ক্রমশ নিম্নমুখী হয়েছে। এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল সেই বাস্তবতাই প্রকাশ করেছে, যেখানে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, তাতে শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য বেশ কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী করা, মোবাইল ও মাদকের আসক্তি থেকে বিরত রাখা, নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করা, ফেল করা শিক্ষার্থীকে পরবর্তী শ্রেণিতে না তোলা এবং শিক্ষকদের পাঠদানে আন্তরিকতা বাড়ানো।
সমঝোতা অনুযায়ী ইউএনও নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। অন্যদিকে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা প্রধানরা শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখবেন। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দ্রুত সতর্ক নোটিশ প্রদানের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস, হোম ভিজিট, গাইড শিক্ষক নিয়োগ, অভিভাবকদের সম্পৃক্তকরণ এবং ম্যানেজিং কমিটির কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে মোবাইল আনা বন্ধ করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্মারকে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে মাদকবিরোধী ও বাল্যবিবাহ বিরোধী কমিটি গঠন করতে হবে। পাশাপাশি বিজ্ঞান, ইংরেজি ও বিতর্ক ক্লাব প্রতিষ্ঠা, স্কাউটিং কার্যক্রম জোরদার এবং নিয়মিত সচেতনতামূলক সমাবেশ আয়োজন করতে হবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, এ ধরনের সমঝোতা স্মারক শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। নকলমুক্ত পরিবেশ, দায়িত্বশীল শিক্ষকতা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে উজিরপুর আবারও শিক্ষার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।
