

মো: ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৫নং বিনাইল ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ নুর ইসলাম নূরের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, দিনাজপুরে মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার প্রায় একমাস পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল ঢাকার একটি এলাকা থেকে র্যাবের একটি বিশেষ দল অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে আটক করে। তাকে বিরামপুর থানা হেফাজতে এনে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী পেশায় একজন হোটেল কর্মচারী এবং স্থানীয় বিনাইল গুচ্ছগ্রামে সরকারপ্রদত্ত একটি বাড়িতে বসবাস করেন। ২০২৫ সালের ৪ জুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হোটেলের কাজ শেষে স্বামীর জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় আসামি মোটরসাইকেলে করে এসে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। তিনি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও রাস্তায় গন্তব্য পরিবর্তন করে এক নির্জন স্থানে নিয়ে যান এবং সেখানে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করেন।
ধর্ষণের পর আসামি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং ভুক্তভোগী অনেক কষ্টে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফেরেন। পরবর্তীতে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় ও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় বলে চিকিৎসা প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ও তার স্বামী অভিযোগ করেন, তারা থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ পক্ষপাতমূলক আচরণ করে এবং মামলা গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা করে। ফলে বাধ্য হয়ে তারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ইতিপূর্বেও এলাকায় একাধিক নারীকে উত্যক্ত করেছেন এবং প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে গেছেন।
মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩ ও ২০২০) এর ৯(১) ও ৯(৪) ধারায় দায়ের হয়েছে। এই ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, এই মামলার সঙ্গে ভুক্তভোগীর চিকিৎসা সনদ, জখমের ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীসহ একাধিক সাক্ষীর বিবৃতি সংযুক্ত রয়েছে। মামলার সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন হোটেল মালিক ফরিদা বেগম, বাদীর স্বামী মনছের আলী, স্থানীয় ব্যক্তি মোছাদ্দেক, মাসুদ রানা ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নুর ইসলাম নূর ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন। র্যাবের একটি টিম ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। বর্তমানে তাকে বিরামপুর থানায় নিয়ে এসে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
