

লোকমান হোসেন পলা, কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে কসবা পুরাতন বাজার এলাকায় কসবা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলামের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাজারের বিভিন্ন স্থানে পথচারী, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়-বিষয়ক সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, নির্মাণসামগ্রী কিংবা অন্য কোনো স্থানে যাতে পানি জমে মশার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয়।
গণসচেতনতামূলক কর্মসূচিতে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আলমগীর মিয়া, কসবা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফ আলীসহ উপজেলা ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে ইউএনও মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জনসচেতনতা। বাড়ির আঙিনা কিংবা কোনো পাত্রে যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ঝোপঝাড় পরিষ্কার করতে হবে এবং রাতে মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে এবং ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে। তবে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ইউএনও জানান, কসবা উপজেলায় এখন পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি। সবাই সচেতন থাকলে এবং মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পৌর এলাকার ড্রেন, নালা ও মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
