ঢাকা
logo
প্রকাশিত : September 24, 2026

ইউপি নির্বাচনে বাড়ছে ইসির ক্ষমতা, প্রার্থীর জামানত বৃদ্ধি ৫ গুণ

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও ভোটে অনিয়মের ক্ষেত্রে কমিশনের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইউপি নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬-এর সংশোধনী গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সংশোধিত বিধিমালায় সই করেন।

নতুন বিধান অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ২ লাখ টাকা। আগে এই সীমা ছিল যথাক্রমে ৫ লাখ ও ১ লাখ টাকা।

চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীকে ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য পদে ৫ হাজার টাকা ট্রেজারি চালান, পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুকূলে জমা দিতে হবে। কোনো প্রার্থীর পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করা হলেও একাধিক জামানত দিতে হবে না।

জামানত ফেরতের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোনো প্রার্থী প্রদত্ত মোট ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ পেলে তাঁর জামানত ফেরত দেওয়া হবে। এর কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। আগে ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্তের বিধান ছিল।

জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য কোনো প্রার্থী সরকারি গেজেটে নির্বাচনের ফল প্রকাশের ছয় মাসের মধ্যে ওই অর্থ গ্রহণ না করলে তা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

সংশোধিত বিধিমালায় এবার চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নির্বাচনী হলফনামা দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগের বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জন্য এ ধরনের বাধ্যবাধকতা ছিল না। তবে সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীদের জন্য হলফনামা দেওয়ার বিধান রাখা হয়নি।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। কোনো উৎস থেকে পাওয়া রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো প্রার্থী বা তাঁর নির্বাচনী এজেন্টের বিরুদ্ধে বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশন তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশন লিখিত আদেশে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। এ আদেশ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী, তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে এবং সরকারি গেজেটে প্রকাশ করতে হবে।

কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি, কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়মের কারণে গুরুতরভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। অনুসন্ধানের পর প্রয়োজন মনে করলে কেন্দ্রটির নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোট গ্রহণের নির্দেশও দিতে পারবে।

দুই বা ততোধিক প্রার্থী সমান সর্বোচ্চ ভোট পেলে এবার লটারির পরিবর্তে পুনরায় ভোট গ্রহণের বিধান করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমান সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পুনরায় ভোট গ্রহণের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেবে কমিশন।

চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব পরিচালনার জন্য তফসিলি ব্যাংকে আলাদা হিসাব খোলার বিধান রাখা হয়েছে। নির্বাচনী ব্যয়ের সব অর্থ ওই হিসাবের মাধ্যমে ব্যয় করতে হবে। কোনো খাতে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয় হলে তা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

নির্বাচন-পূর্ব সময়ে প্রচারণার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০২৬-এর বিধান প্রযোজ্য হবে। ওই বিধিমালার পরিপন্থী কোনো কার্যক্রমে অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধিতা কিংবা অন্য কোনো কারণে সহায়তা প্রয়োজন এমন ভোটারকে ভোটদানে সহায়তার জন্য কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

কোনো ভোটার নিজে ব্যালট পেপারে চিহ্ন দিতে না পারলে তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী সহায়তাকারী চিহ্ন দিতে পারবেন। তবে ওই সহায়তাকারী কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হতে পারবেন না। ভোটারের পছন্দ গোপন রাখার নির্দেশনাও তাঁকে দিতে হবে। এ ধরনের ভোটারের তালিকা সংরক্ষণ করবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি, কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যমকর্মী বা পর্যবেক্ষককে হুমকি, ভয়ভীতি, আঘাত বা বলপ্রয়োগ করে বাধা দেওয়া কিংবা তাঁদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

একইভাবে ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, কোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে বিরত রাখা বা মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করাও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো মনিটরিং করতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে কমিশন।

নির্ধারিত সময়ে কোনো প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট বা পোলিং এজেন্ট উপস্থিত না থাকলেও তাঁদের অনুপস্থিতির কারণে আইনানুগভাবে সম্পন্ন কোনো কার্যক্রম অবৈধ হবে না। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে তাঁদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে এবং অনুপস্থিতির কারণ লিখিতভাবে কমিশনকে জানাতে হবে।

আসন্ন ইউপি নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। চেয়ারম্যান পদের জন্য ২০টি, সাধারণ সদস্য পদের জন্য ১২টি এবং সংরক্ষিত সদস্য পদের জন্য ১০টি প্রতীক রাখা হয়েছে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram