ঢাকা
logo
প্রকাশিত : September 24, 2026

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিবাহ ঠেকাতে ইউএনও'র দ্বারস্থ ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দ্বারস্থ হয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির পনের বছরের এক শিক্ষার্থী। পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানতে পেরে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রথমে থানায় গিয়ে অভিযোগ করে ওই শিক্ষার্থী।

পরে তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে নিজের বাল্যবিবাহের বিষয়টি জানিয়ে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় ওই শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে পুলিশ হওয়ার ইচ্ছার কথাও জানায় সে।

মাধ্যমিক পড়া ওই শিক্ষার্থী বলেন, আমি নিজেই আমার বাল্যবিবাহ বন্ধের জন্য ইউএনও'র কাছে গেছি। আমি লেখাপড়া করে পুলিশ হতে চাই। সেজন্য সাহস করেই আমি ইউএনও'র কাছে গেছি।

ওই শিক্ষার্থীর মা (অভিভাবক) বলেন, আমার স্বামী সাত বছর আগে মারা গেছে। অভাবের সংসারে পরের বাড়িতে কাজকর্ম করে সংসার চালিয়ে আরও তিনটি মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। এটা ছোট মেয়ে। তার বিয়েটি দিয়ে ঝামেলা মেটাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন আর তাকে বিয়ে দিবো না। তার ইচ্ছে লেখাপড়া করে পুলিশ হওয়া। আমি তাকে সেটা হতে সহযোগিতা করবো।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হযরত আলী বলেন, ‘ইউএনও আমাকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে মেয়েটি আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কি না জানতে চান। পরে সেখানে গিয়ে আমি মেয়েটির বিষয়ে বিস্তারিত জানাই।’

তিনি বলেন, 'মেয়েটির বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। তার মা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে এবং ধারদেনা করে সংসার চালান। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে হয়তো মেয়েটিকে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে এখন আর তাকে বিয়ে দেওয়া হবে না বলে পরিবার জানিয়েছে।’

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, বিদ্যালয়ে ওই শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ মওকুফ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটির পরিবার খুব দরিদ্র। সে ছাড়া তার আরও তিনটি বোন আছে। কোন ভাই নেই। অভাব—অনটনের কারণেই মেয়েটির মা তার বিয়ে দিতে চেয়েছিল। এখন তার মা মেয়েটির বিয়ে দিবেনা বলেছে। তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে তার মা তাকে লেখাপড়া করাবে বলে আমাদের কথা দিয়েছে।’

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, 'মেয়েটি প্রথমে শিবগঞ্জ থানায় গিয়ে জানায়, তার পরিবার তাকে বিয়ে দিতে চাচ্ছে। পরে থানা থেকে তাকে আমার কাছে পাঠানো হয়। সে আমার অফিসে এসে জানায়, সে বাল্যবিবাহ করতে চায় না। পড়াশোনা করে পুলিশ হতে চায়।’

ইউএনও বলেন, 'এরপর মেয়েটির পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অফিসে ডেকে আনা হয়। পরিবারের সদস্যদের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বোঝানো হয়েছে। তারা এখনই মেয়েটির বিয়ে দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, মেয়েটির পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার সুবিধার্থে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বই, ব্যাগ, পোশাকসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কেনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে মেয়েটি যাতে পড়াশোনা চালিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, সে জন্য প্রশাসন তার পাশে থাকবে।

স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। পড়াশোনা চালিয়ে ভবিষ্যতে পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে চায় সে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram