

সাইমুন ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: দেশজুড়ে ভারতীয় ভিসার অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট পাওয়া নিয়ে দালাল ও অসাধু ট্রাভেল এজেন্সির সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ আবেদনকারীদের জিম্মি করে অবৈধ উপায়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। যেখানে সাধারণ ভিসা আবেদনকারী প্রার্থীরা নিজে সাইটে চেষ্টা করে স্লট পান না, অথচ দালান চক্রগুলোর মাধ্যমে টাকা দিলে ঠিকই তাৎক্ষণিক স্লট মিলছে।
তথ্য সূত্র বলছে, রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশজুড়ে দীর্ঘ বছর ধরে অসাধু একটি সিন্ডিকেট ভারতীয় ভিসার ব্যবসা করে আসছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসার আবেদন সম্পূর্ণ ফ্রি নয়। বাংলাদেশ থেকে ভারতের যেকোনো ধরনের ভিসার (যেমন ট্যুরিস্ট বা মেডিকেল) জন্য স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে ভিসা প্রসেসিং ফি বাবদ সাধারণত ৮০০ টাকা এবং আইভিএসি (IVAC) এর প্রসেসিং ও সার্ভিস চার্জসহ মোট ৮২৪ থেকে ৮২৫ টাকা পরিশোধ করতে হয়।
তথ্য অনুসন্ধানে আরো জানা যায, রাজধানী ঢাকা সহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি, কম্পিউটারের দোকানে ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা স্লটসহ বিক্রি হয় ৭/৮ হাজার টাকায় কোন কোন ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি। আর ডাবল এন্ট্রি ভারতীয় ভিসা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে ২ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়। এই সিন্ডিকেট ছাড়াও দেশজুড়ে অলিগলি সকল স্থানে একই চিত্র। অন্যান্য উপজেলায়ও ভারতীয় ভিসার চিহ্নিত দালাল চক্রের সংখ্যা ব্যাতিক্রম নয়।
এ বিষয়ে এক ভুক্তভোগী, রাজধানী ঢাকাস্থ ধানমন্ডি শহরের স্থায়ী বাসিন্দা শাকায়েত উল্লাহ (৩০) বলেন, সে পর্তুগাল যেতে একটি ট্রাভেলস এজেন্সিতে চুক্তিবদ্ধ হন। তবে ওই দেশে যেতে প্রথমেই ভারতীয় ডাবল এন্ট্রি ভিসা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে এক এজেন্সিতে যোগাযোগ করলে ভারতীয় ভিসা করতে তার কাছ থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়, আর নরমালি স্লট নিলে ৮ হাজার টাকা।
অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাড়া আমলা পাড়ার বাসিন্দা মিরাজ হোসেন (২৬) বলেন, সেও ইতালি যাবেন। ভারতীয় ভিসা করতে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়েছে। তার মত অনেকেই ভারতীয় ডাবল এন্ট্রি ভিসা পেতে ওই এ-ই পরিমাণের অর্থ গুনতে হয় টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, ভারতীয় ভিসা সেন্টার যমুনা ফিউচার পার্কে বিভিন্ন ট্রাভেলস এজেন্সি রয়েছে। এসব ট্রাভেলস এজেন্সির লোকজন ভারতীয় ভিসার দালালি করে থাকেন। এই সিন্ডিকেটটি ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ভারতে ডাবল এন্টি ভিসা করিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
এ সিন্ডিকেট এখন দেশজুড়ে রামরাজত্ব কয়েম করছে সিন্ডিকেট লোকজনের মাধ্যমে। এভাবে প্রতিদিন বহু লোকজন তাদের কাছে প্রতারিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদারকি না করায় প্রকাশ্যে এই সিন্ডিকেটের লোকজন প্রতারণা করছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জসহ দেশে বিভিন্ন স্থানে খবর নিয়ে জানা গেছে, ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা করতে সে ৭/ ৮ হাজার টাকা নেন। আর ভারতীয় ভিসার তারিখ নিয়ে দিতে ৩৫ হাজার টাকা নেন। আর ডাবল এন্ট্রি ভিসা নিতে হলে সরাসরি এসে চুক্তি করতে হয়।
এ বিষয়ে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পর্যটন ও ট্রাভেলস এজেন্সি শাখা (উপসচিব) মির্জা মুরাদ হাসান বেগ বলেন, এই ধরনের অভিযোগ এখন বহু পাওয়া যাচ্ছে। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভারতীয় হাইকমিশন ঢাকা টেলিফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বরত এক ব্যক্তি বলেন, ভারতীয় যে কোন ভিসার জন্য ১৫০০ টাকা দিতে হয়। আর কোন বাড়তি টাকা দিতে হয় না। কিন্তু কিছু ট্রাভেলস ও দালালরা ১ লক্ষ ৫০ হাজার ও ২ লক্ষ টাকাও ভারতীয় ভিসার জন্য নিচ্ছে, এটা সত্য। অনেকেই ট্রাকিং করে ধরা হচ্ছে।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তদন্তের সেবার্থে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
