

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে অপহরণপূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান পলাতক আসামি আব্দুল হককে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার আব্দুল হক চুনারুঘাট উপজেলার ডুলনা গ্রামের সামছুল হকের ছেলে। সোমবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
র্যাব-৯ জানায়, রোববার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ইকরতলী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অপহরণপূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর পলাতক আসামি আব্দুল হককে গ্রেফতার করা হয়। পরে গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চুনারুঘাট থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব।
মামলার এজাহার ও র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী চুনারুঘাট উপজেলার উসমানপুর এলাকার বাসিন্দা। গ্রেফতার আব্দুল হক ভুক্তভোগীর খালাতো ভাই। আত্মীয়তার সুবাদে তিনি প্রায়ই ভুক্তভোগীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে তিনি ভুক্তভোগীকে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিষয়টি ভুক্তভোগী তার বাবাকে জানালে তিনি আব্দুল হকের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করেন। এতে আব্দুল হক ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগীর ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজতে থাকেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৫ মে রাত আনুমানিক ২টার দিকে ভুক্তভোগী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা রমজান আলী ও মিল্লাদ মিয়া তার মুখ চেপে ধরেন। এ সময় গলায় চাকু ঠেকিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় আব্দুল হক ভুক্তভোগীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে চুনারুঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই আব্দুল হক পলাতক ছিলেন। অবশেষে র্যাব-৯-এর অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হলো। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
