

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সরকারি অফিস বলতে যে চেনা ছবি—ফাইলের স্তূপ, অপেক্ষমাণ মানুষের ভিড় আর রুক্ষ প্রাঙ্গণ—সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ চত্বরে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। নয় ইউনিয়নের নাম সম্বলিত নান্দনিক স্থাপনা, সারিবদ্ধ ফুলের বাগান ও সুরমা নদীর তীর ঘেঁষা 'রিভারভিউ' পরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্রশাসনিক এলাকাটি পেয়েছে ভিন্ন এক রূপ।
চত্বর নির্মাণের পর বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চারা পরিকল্পিতভাবে রোপণ করা হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যায় সেই ফুলের বাগান এখন ক্রমেই প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। সবুজের সঙ্গে রঙিন ফুলের মিশেলে ব্যস্ত প্রশাসনিক এলাকায় তৈরি হয়েছে স্নিগ্ধ ও স্বস্তিদায়ক আবহ। বিশেষ করে সুরমা নদীঘেঁষা অবস্থানের কারণে পুরো চত্বরের সৌন্দর্যে যোগ হয়েছে বাড়তি মাত্রা।
সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনের প্রধান ফটকের নান্দনিক স্থাপনাটি। উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের নাম খোদাই করা নকশাকৃত এই স্থাপনা একদিকে ইউনিয়নগুলোর পরিচিতি তুলে ধরছে, অন্যদিকে বাড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসনিক ভবনের সৌন্দর্য। দূর থেকে দেখলেও স্থাপনাটি সহজেই আগত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
গত ১৭ আগস্ট ‘দোয়ারাবাজার চত্বর’ নামের এই স্থাপনার উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরূপ রতন সিংহ। স্থাপনাটির নির্মাণকাজ করেছে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিরাজ এন্টারপ্রাইজ।
উপজেলা পরিষদে প্রতিদিন বিভিন্ন সেবা নিতে আসেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। দাপ্তরিক কাজে অপেক্ষার সময় এখন তাদের অনেকের কাছে আগের মতো একঘেয়ে মনে হয় না। ফুলের বাগান, নান্দনিক স্থাপনা আর নদীঘেঁষা মনোরম পরিবেশ তাদের স্বস্তি দিচ্ছে। বিশেষ করে সুরমা নদীর তীরঘেঁষা রিভারভিউ স্থানটি আগত মানুষের বসা ও কিছুটা সময় কাটানোর আকর্ষণীয় জায়গা হয়ে উঠেছে।
সেবা নিতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, 'আগে সরকারি অফিসে এলে শুধু কাজের ব্যস্ততা আর অপেক্ষার কথাই মনে হতো। এখন এসে পরিবেশটা ভালো লাগে। রিভারভিউ থেকে সুরমা নদীর প্রাণবন্ত ঢেউ আর সুন্দর স্থাপনাগুলো চোখে পড়ে। এতে অফিসে আসার অভিজ্ঞতাটাও বদলে গেছে।'
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নান্দনিক হলে মানুষের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। পাশাপাশি এমন উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের মধ্যেও পরিবেশ-সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। তাদের প্রত্যাশা, সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগ নিছক সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নয়; পরিকল্পিত সবুজায়নের মাধ্যমে একটি পরিবেশবান্ধব ও স্বস্তিদায়ক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলাও এর অন্যতম লক্ষ্য। সুন্দর পরিবেশে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সেবাগ্রহীতারাও স্বস্তি পান। এতে সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতার মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ ও ইতিবাচক হয়।
নয় ইউনিয়নের নামফলক, ফুলের বাগান, পরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ আর সুরমা নদীর তীরঘেঁষা রিভারভিউ—সব মিলিয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ চত্বর এখন প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নান্দনিকতারও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানও যে মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ চত্বর তারই একটি সুন্দর উদাহরণ।
