

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ভাতকুন্ডু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকট। যার ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি খোলা বারান্দায় গাদাগাদি করে ক্লাস করতে গিয়ে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান। এতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুরোনো ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে, আবার কোথাও ছাদের অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। শ্রেণিকক্ষের দেয়াল ও ছাদে স্যাঁতসেঁতে দাগও দেখা যায়। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়। ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিদিন সকাল হলেই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে শ্রেণিকক্ষে বসে। কিন্তু ক্লাস চলাকালে তাদের অনেকের মধ্যেই ভয় কাজ করে। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টি হলে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। অভিভাবকরাও সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারছেন না। তাদের আশঙ্কা, হঠাৎ ভবনের কোনো অংশ ধসে পড়লে প্রাণহানির মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নে ১৯৯৪ সালে ভাতকুন্ডু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১জন প্রধান শিক্ষক ও ৩ জন সহকারী শিক্ষক দিয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২৪৬ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করানো হচ্ছে। পরে ২০১২ সালে একটি দক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমতাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করণের লক্ষে তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় একটি ছোট ভবন নির্মাণ করা হয়। সেই ঘরে কোনরকমে চলছে পাঠদান ও বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ।
তারা আরও জানান, শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতার কারণে নিয়মিত পাঠদান পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একটি শ্রেণিতে পাঠদান চলার সময় বারান্দায় থাকা শিক্ষার্থীদের শব্দে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হয়। আবার বৃষ্টি, প্রচুর রোদ কিংবা শীতের সময় বারান্দায় ক্লাস নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে শ্রেণিকক্ষ বাড়েনি। নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও মিলেনি প্রতিকার। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের সংকট নিরসনে দ্রুত নতুন কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। শিক্ষার্থীদের বারান্দায় বসিয়ে নয়, পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান হবে বলে আশা করছেন তারা।
প্রধান শিক্ষক মোসা. ফারহা দিবা বলেন, ভবনের সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও কবে নাগাদ স্থায়ী সমাধান হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। আমরা বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনে পাঠদান করাতে চাচ্ছি না। দ্রুত এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা দরকার।
শিক্ষার্থী সিনিহা আক্তার বলেন, শ্রেণিকক্ষের ভেতরে বসে পড়াশোনা করার সময়ে আমার মাথার ওপরে পলেস্তারা ধসে পড়ে। এতে আমার মাথায় আমি আঘাতপ্রাপ্ত হই। আমাদের বিদ্যালয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। দ্রুত বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মাণ কাজ শুরু হলে আমরা শান্তিতে পড়ালেখা করতে পারব।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমান জানান, নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত আকারে তালিকা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা হবে।
