

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে আরও দুর্বল অবস্থানে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক কলিন ক্লার্ক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘দ্য সুফান সেন্টারের’ নির্বাহী পরিচালক।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কলিন ক্লার্ক বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন পরিস্থিতির প্রকৃত গভীরতা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছে না। তার মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অবস্থান আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি মনে করি না যে প্রশাসন বুঝতে পারছে যুক্তরাষ্ট্র কতটা খারাপ অবস্থায় আছে। আমরা (ইরানের) সর্বোচ্চ নেতার জায়গায় তুলনামূলকভাবে আরও কঠোর অবস্থানধারী ও তরুণ আইআরজিসি-সম্পর্কিত নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেছি। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র তার ক্ষেপণাস্ত্র মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে খরচ করেছে, যা বিশ্বের অন্য কোথাও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতাকে সীমিত করবে।”
কলিন ক্লার্ক আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সঙ্গে আচরণও এই পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। তার ভাষায়, ওয়াশিংটন ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে পর্যাপ্ত সমন্বয় করেনি এবং তাদের অবমূল্যায়ন করেছে।
তিনি বলেন, “আমরা ইউরোপীয়দের প্রতি উদাসীন ছিলাম, তাদের সঙ্গে পরামর্শ করিনি, তাদের নিয়ে উপহাস করেছি। তারপর আবার বলেছি- তোমরা কেন এখানে এসে নিজেদের তেল নিয়ে আসছো না এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দিচ্ছো না?”
তিনি আরও কঠোর ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করে বলেন, “এটি ছিল পররাষ্ট্রনীতির গুরুতর ব্যর্থতা এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন এক থেকে দুই বছর আগের তুলনায় অনেক খারাপ অবস্থানে রয়েছে।”
বিশ্লেষকের এই মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমাগত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
