ঢাকা
১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
দুপুর ১২:২৭
logo
প্রকাশিত : মে ১৭, ২০২৬

ট্রাম্প সতর্ক করার পরও নিজেদের ‘স্বাধীন’ রাষ্ট্র বলে দাবি তাইওয়ানের

চীনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা না করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করার পর তাইওয়ান নিজেদের ‘সার্বভৌম ও স্বাধীন’ রাষ্ট্র হিসেবে দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বেইজিংয়ে দুই দিনের বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ান নিয়ে তিনি ‘কোনো দিকেই প্রতিশ্রুতি দেননি’। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেনি।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির একটি প্রস্তাব অনুমোদন করবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত তিনি শিগগির নেবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনে তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কও বজায় রাখতে হয়।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এর আগে বলেছেন, আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার প্রয়োজন নেই, কারণ তাইওয়ান নিজেকে আগেই সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দেখে।

শনিবার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ক্যারেন কুও বলেন, তাইওয়ান যে ‘সার্বভৌম, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ’, তা ‘স্বতঃসিদ্ধ’। তবে তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে তাইপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অর্থাৎ, তাইওয়ান চীনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করবে না এবং একীভূতও হবে না।

তাইওয়ানের অনেক মানুষ নিজেদের আলাদা জাতির অংশ হিসেবে মনে করলেও বেশির ভাগই বর্তমান অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে।

ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, তারা তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। একই সঙ্গে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে ‘এক চীন নীতি’ মেনে চলার বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থানের অংশ।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং তিনি বেইজিংয়ের সঙ্গে সংঘাত চান না।

তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে স্বাধীন হতে দেখতে চাই না। যুদ্ধ করতে ৯ হাজার ৫০০ মাইল দূরে যেতে চাই না। আমি চাই পরিস্থিতি শান্ত হোক। চীনও শান্ত থাকুক।’

ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি ও শি জিনপিং তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে ‘অনেক কথা’ বলেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সামরিকভাবে রক্ষা করবে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

ট্রাম্পের ভাষ্য, শি জিনপিং তাইওয়ান প্রশ্নে ‘খুবই দৃঢ় অবস্থানে’ আছেন এবং তিনি ‘স্বাধীনতার কোনো আন্দোলন দেখতে চান না’।

বেইজিং এর আগে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে ‘ঝামেলা সৃষ্টিকারী’ এবং ‘প্রণালি অঞ্চলের শান্তি নষ্টকারী’ বলে উল্লেখ করেছিল।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন তাইওয়ানের আশপাশে সামরিক মহড়া বাড়িয়েছে। এতে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বেড়েছে এবং ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভারসাম্যও চাপে পড়েছে।

ট্রাম্প বলেন, সম্ভাব্য অস্ত্রচুক্তি নিয়ে তাইওয়ানের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা হবে। এ সময় তিনি ইঙ্গিত দেন, বর্তমানে তাইওয়ানের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে তার কথা বলতে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে দুই পক্ষের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্টরা তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন না, কারণ এতে বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে পারে।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদ থেকেই তাইওয়ান প্রণালির নিরাপত্তায় ট্রাম্পের সমর্থনের জন্য দেশটি কৃতজ্ঞ।

তিনি আরও বলেন, শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে তাইওয়ান, যাতে তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত না হয়।

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram