

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠন করে বিএনপি। রাষ্ট্রক্ষমতায় বসার তিন মাস পূর্ণ করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। এই ৯০ দিনে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন আর প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটানোর দিকে দিয়েছে মনোযোগ। তাই, এখনও সরকারকে মূল্যায়নের সময় আসেনি বলে মনে করেন বিএনপি নেতারা। বলছেন, ভিত্তি স্থাপনের সময় চলছে এখন। সুশাসন প্রতিষ্ঠা আর সরকারকে জবাবদিহিতামূলক করাকে দেখছেন গণতান্ত্রিক যাত্রায় বিশাল অগ্রগতি হিসেবে।
মূলত, এক ধরণের আস্থাহীনতা, মব সন্ত্রাস, অর্থনৈতিক সংকট আর রাজনৈতিক শূন্যতার এক চরম অস্থিরতার মধ্যে বিপুল জনরায়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। প্রায় দুই দশকের নির্বাসন শেষে তার কাঁধে চাপে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার গুরুভার। কিন্তু মসনদে বসতেই সামনে আসে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট; মুহূর্তেই যার ধাক্কা লাগে জনজীবনে।
সংকট কেবল জ্বালানিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বাজার অস্থিরতা— প্রতিটি পদেই দিতে হয়েছে কঠিন অগ্নিপরীক্ষা। তিন মাস বয়সী বিএনপি সরকারের দাবি, দক্ষতা আর আন্তরিকতায় সেই প্রাথমিক ধাক্কা সামলে সাফল্যের পথে যাত্রা শুরু করেছে তারা। নব্বই দিন ছিল, স্রেফ প্রস্তুতি।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, 'আমাদের বহু ঋণ পরিশোধের সময় চলে এসেছে। তবে সেই ঋণ করে যেসব প্রজেক্ট করা হয়েছে, সেই ক্ষেত্রগুলো থেকে রিটার্ন খুব একটা পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে অর্থনীতির ওপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ৩ মাসে হয়ত আমূল পরিবর্তনের দৃশ্যমান একটা রূপ দেখা যায় না. তবে মানুষ এটা বুঝতে পারবে, সরকার তার কল্যাণের জন্য কাজ শুরু করেছে কি না।'
ফ্যামিলি-কৃষক কার্ড বণ্টনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়কে বিবেচ্য করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'অনেক বিবেচনা করে এগুলো বিলি করা হয়েছে।'
জনগণ এই ভালো কাজগুলোর প্রশংসা করছে বলেও দাবি করেন বিএনপির এ সিনিয়র নেতা।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা এবং কাজের ক্ষেত্রে কৈফিয়তের যে পদ্ধতি চালু করেছেন এটি অনুসরণীয়। বহু বছরের আবর্জনা তিন মাসে পরিস্কার করা সম্ভব না।'
এখন পর্যন্ত সরকার সফলতার সঙ্গে কাজ করছে বলে মনে করেন তিনি।
সরকারের তিন মাসের খতিয়ানে বড় অর্জন ধরা হচ্ছে কৃষি, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতকে। বিশেষ করে কৃষকের ঋণ মওকুফ, নদী-খাল খনন আর পদ্মা ব্যারেজের মতো মেগা প্রকল্পের সিদ্ধান্তগুলো জনগণের আস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন নেতারা।
পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, 'কৃষি কার্ড, খাল খনন, একনেকে পদ্মা ব্যারেজের অনুমোদনসহ রাষ্ট্র ও জনকল্যাণমুখী অনেক প্রজেক্টই দৃশ্যমান। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিটা ডিপার্টমেন্ট একসূত্রে গাঁথা এবং কাজের ক্ষেত্রে গতিশীল।'
তবে তিন মাসের সবচেয়ে বড় চমক— সরকার প্রধানের জবাবদিহিতার মানসিকতা । সম্প্রতি জনগণের সাথে সম্পৃক্ত তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রশ্নের মুখোমুখি করেন মন্ত্রীদের। বিএনপি বলছে, এটিই তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের 'জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ'- এর আনুষ্ঠানিক সূচনা।

