

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ঝড়কা কিসমত কাত্রা (ভাঙ্গারপাড়) এলাকায় সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর থেকে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মারধর, ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে ঘাটাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোছা. শিরিনা আক্তার (৩৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিরিনা আক্তার ও তার স্বামী মো. আব্দুস সামাদ দীর্ঘদিন ধরে সরকারের দেওয়া গুচ্ছগ্রামের একটি ঘরে বসবাস করে আসছেন। তাদের নিজস্ব কোনো জমি বা বসতভিটা নেই। শিরিনার অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওই ঘর থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে আসছিলেন।
লিখিত অভিযোগে স্থানীয় নুরুল ইসলাম (৫৫), ফয়সাল (২৮), ফিরোজা বেগম (৫০) ও নুরজাহান বেগম (৩২)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ জুন দুপুরে অভিযুক্তরা তাদের ঘরের সামনে এসে ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলেন। এতে আপত্তি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে গালাগাল শুরু করেন এবং একপর্যায়ে শিরিনা আক্তার ও তার স্বামীর ওপর হামলা চালান। এতে তারা আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলার সময় অভিযুক্তরা ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১২ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করেন। এছাড়া সরকারি ঘরের দুটি স্টিলের জানালা, দুটি দরজা ও একটি টিউবওয়েলের মাথা ভেঙে ফেলা হয়। ঘরের বিভিন্ন তৈজসপত্র এবং প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য সঞ্চিত ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন ও দুটি বাটন ফোন ছিনিয়ে নেন। পাশাপাশি বিদ্যুতের মিটারের সংযোগ তারও ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে দাবি করেছেন শিরিনা আক্তার।
ঘটনার পর শিরিনা আক্তার ও তার স্বামী স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন। পরে বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে ঘাটাইল থানায় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৃথক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে প্রশাসন।
