ঢাকা
১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিকাল ৪:৪২
logo
প্রকাশিত : অক্টোবর ৪, ২০২৫

বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য বড় জয়

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি তরুণ উইন রোজারিও হত্যার ১৮ মাস পর অবশেষে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এই অভিযোগ আসে এমন সময়ে, যখন পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক অভিযোগ দায়েরের আইনগত সময়সীমা ২৬ সেপ্টেম্বর শেষ হতে চলেছিল। এ খবর দিয়েছে ভারতের অনলাইন স্ক্রল। এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের মার্চে ১৯ বছর বয়সী উইন রোজারিও পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটি তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা সালভাতোরে অ্যালঙ্গি ও ম্যাথিউ সিয়ানফ্রোকোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

প্রচণ্ড জনচাপের মুখে নিউইয়র্ক পুলিশ ছয় মাস পর বডি-ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ করে, যা তাদের প্রথম দিকের বিবৃতির বিরোধিতা করে। শুরুতে পুলিশ দাবি করেছিল, রোজারিও আগ্রাসী আচরণ করেছিলেন। ঘটনাটি তদন্ত করে নিউইয়র্ক সিটির সিভিলিয়ান কমপ্লেইন্ট রিভিউ বোর্ড (সিসিআরবি)। এ সংস্থা সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে গঠিত একটি স্বাধীন তদন্ত সংস্থা।

তারা জানায়, পুলিশ কর্মকর্তারা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। মোট আটটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে প্রত্যেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সিসিআরবি খুব কম ক্ষেত্রেই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারে। ২০১৯ সালে বডি-ক্যামেরা চালুর পর থেকে কিছু বাড়লেও, এখনো কেবল ২০ শতাংশ মামলাতেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়। উইনের পিতা ফ্রান্সিস রোজারিও বলেন, আমরা স্বস্তি পাচ্ছি যে বোর্ড অভিযোগগুলো প্রমাণ করেছে এবং কমিশনার টিশ আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করেছেন। তবে আমরা জানি পুলিশকে রক্ষা করতে নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট নানা কৌশল খাটায়। তাই আমাদের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন এই কর্মকর্তারা চাকরি হারান এবং আর কোনো পরিবারের জন্য হুমকি না হন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ দুপুর ২টার দিকে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন উইন রোজারিও। তিনি নিজেই ৯১১-এ ফোন করে সাহায্য চান। পুলিশ উপস্থিত হলে তার ভাই উৎস দরজা খুলে বলে, উইন ‘একটি মানসিক এপিসোড’-এর মধ্যে আছেন। পুলিশ ভেতরে ঢুকতেই উইন আতঙ্কিত হয়ে রান্নাঘর থেকে কাঁচি তুলে নেন। এক কর্মকর্তা টেজার ব্যবহার করলে উইন মাটিতে পড়ে যান এবং তার মা আভা কস্তা কাঁচিটি সরিয়ে নেন। কিন্তু পরে উইন আবার কাঁচি হাতে নিলে, মা তাকে আটকে রাখেন। পুলিশ তখন গুলি চালায়। প্রথম গুলির পরও উইন তেমন নড়াচড়া না করলেও, তাকে আরও চারবার গুলি করা হয়। ঘটনাটি ঘটে পুলিশের প্রবেশের মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে।

এই মামলা চালু করতে পরিবারের পাশে ছিলেন বিভিন্ন কর্মী ও সংগঠন। তারা সিটি হলে বিক্ষোভ করেন, শুনানিতে বক্তব্য দেন এবং মামলাকে আলোচনায় রাখেন। কর্মী কাজি ফউজিয়া, সংগঠন ডেসিস রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিং (ডিআরইউএম) -এর পরিচালক বলেন, আমরা কখনোই দক্ষিণ এশীয়দের এভাবে সংগঠিত হয়ে ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামতে দেখিনি। এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের নিয়মিত সংগঠিত আন্দোলনের কারণে।

বাংলাদেশি কমিউনিটির অবস্থান: যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশি বসবাস করেন। তাদের এক-তৃতীয়াংশ নিউইয়র্ক সিটিতে। বিশেষ করে কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস, ব্রুকলিনের কেনসিংটন, ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার ও ম্যানহাটনের কিছু এলাকায়। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা এই জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি চাকরি- যেমন পুলিশে যোগ দেওয়া প্রায়শই স্থিতিশীল জীবিকার পথ হিসেবে দেখা হয়।

কিন্তু তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পুলিশের প্রতি সন্দেহ বাড়ছে। বিশেষ করে উইনের মতো একজন বাংলাদেশির মৃত্যু কমিউনিটিতে বড় ক্ষোভ তৈরি করেছে। উইনের পরিবার ও অধিকারকর্মীরা এখন দাবি করছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সঙ্কটে পুলিশ নয়, বিশেষ মানসিক স্বাস্থ্য টিম পাঠানো হোক। নিউইয়র্কের মেয়র পদপ্রার্থী জোহরান মামদানিও একই দাবি তুলেছেন।

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram