

মানিক ভূঁইয়া, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নির্যাতনের স্বীকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে মানবাধিকার সংগঠন "অধিকার" এর উদ্যোগে নোয়াখালীতে মানববন্ধন, র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পরে জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে র্যালি প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দৈনিক আমার দেশ নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি ও ডিফেন্ডার আজাদ ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুর রহিম, নোয়াখালী আইনজীবী সমিতি ও জাতীয়বাদী আইন ফোরামের সাবেক সভাপতি বি ইউ এম কামরুল ইসলাম, নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বৈশাখী টেলিভিশনের নোয়াখালী প্রতিনিধি লিয়াকত আলী খান, সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার সাইফুল্লাহ কামরুল, এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার মাসুদ পারভেজ, নোয়াখালী টিভি সাংবাদিক ফোরামের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ টুডে এবং এটিএন বাংলা নোয়াখালী প্রতিনিধি মানিক ভূঁইয়া, প্রথম আলো প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান, সাপ্তাহিক চলতিধারা সম্পাদক এমবি আলম, দৈনিক দিশারী সম্পাদক আকাশ মো জসিম, এড. মোরশেদ আলম নিপু, সাংবাদিক এস এম রিজোয়ান, কালবেলা নোয়াখালী প্রতিনিধি মোঃ মোজাম্মেল হোসেন, প্রতিদিনের সংবাদ নোয়াখালী প্রতিনিধি জুয়েল রানা লিটন, ইসলামিক টিভি নোয়াখালী প্রতিনিধি কামরুল কানন, এডভোকেট মোঃ হারুন ভূইয়া, মোঃ জিয়াউল হক ভূঁইয়া, সাংবাদিক সিরাজ উদ্দিন শাহীন, ফজলুল কাদের রাজু, মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল, মুনতানুর রহমান মান্না, আবদুল আজিজ, মো হাসান, ডিফেন্ডার মোঃ শাহাবুদ্দিন, মোঃ মাহফুজুর রহমান, মোঃ নাফিজ, মেহেদী হাসানসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিরোধীদলসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এমনকি ভিন্ন মতাবলম্বীদের কেউই নিরাপদ ছিল না। শাসক গোষ্ঠী তাদের আজ্ঞাবহ প্রশাসন দিয়ে প্রতিনিয়ত অপহরণ ঘুম খুন বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ দেশে অপরাধের মহোৎসব চালিয়েছিল। ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম অত্যাচার নির্যাতন মিথ্যা মামলা হামলা জেল জুলুম থেকে ভিন্ন মতের কেউই রক্ষা পাননি এবং নিরাপদ ও ছিলেন না। মানবাধিকার রক্ষায় দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।
২৬ শে জুন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস। ১৯৮৪ সালে ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, আমাণবিক অথবা মর্যাদাহানিকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ নীতিগত অবস্থান গ্রহণ করে, আন্তর্জাতিক আইনে একটি বিধিবদ্ধ আইনি শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই নীতিগত অবস্থান ১৯৮৭ সালের ২৬ জুন কার্যকরী হয় এবং একই সঙ্গে সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতিবছর ২৬ শে জুন এই দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়।
১৯৮৮ সাল থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যারা নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদের প্রতি সংহতি জানানোর দিন ২৬ জুন। এই দিনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যারা নির্যাতন সহ বিভিন্ন ধরনে নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ এবং সহিংসতার শিকার হয়েছেন অধিকার তাদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছি। ১৯৯৮ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতিসংঘ প্রণীত নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সনদে অনুস্বাক্ষর করেছে এবং এই কনভেনশন অনুমোদনকারী প্রতিটি রাষ্ট্রপক্ষ জাতীয় আইনে নির্যাতনকে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গন্য করতে সম্মত হয়েছে।
