ঢাকা
১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
দুপুর ১:৫২
logo
প্রকাশিত : মার্চ ১৫, ২০২৬

অমর একুশে বইমেলার সমাপনী আজ

আজ ১৫ মার্চ অমর একুশে বইমেলার সমাপনী দিন। প্রতিবারের মতো এবারো অমর একুশে বইমেলায় চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার, সরদার জয়েন উদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হবে।

রোববার মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

বিকেল ৩টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। মেলার সমাপনী দিনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ এর সদস্য সচিব ড. মো. সেলিম রেজা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। শুভেচ্ছা বক্তৃতা করবেন সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

অমর একুশে বইমেলা - ২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি পরিচালিত চিত্তরঞ্জন সাহা, মুনীর চৌধুরী, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই, সরদার জয়েনউদ্দীন এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কারপ্রাপ্তদের নামের তালিকা হলো-

চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার : ২০২৫ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কথা প্রকাশকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০২৬ প্রদান।

মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার : ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্য (প্রকাশিত : কালি-কলম আর কাগজের অড রিসার্চ: ফাউন্টেন পেন-আমিন বাবু), প্রথমা প্রকাশন (শিলালিপি: বাংলার আরবি - ফারসি প্রত্নলেখমালা-মুহম্মদ ইউসুফ সিদ্দিক) এবং দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লি: -কে (বরিশাল এন্ড বেয়ন্ড: এসে’জ অন বাঙলা লিটারেচার-ক্লিনটন বি. সেলি (Essays on Bangla Literature-Clinton B. Seely) রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার পাচ্ছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.।

২০২৫ সালে গুণমান বিচারে সর্বাধিক সংখ্যক শিশুতোষ গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার পাচ্ছে সহজ প্রকাশ। অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে ২০২৪ বা ২০২৫ সালে মেলায় যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রথম অংশগ্রহণ করেছে তাদের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ প্রকাশনা সংস্থাকে সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষ্যে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার পাচ্ছে : ১. ক্রিয়েটিভ ঢাকা পাবলিকেশন্স (স্টল নম্বর -৫০৩, ৫০৪), ২. মাত্রা প্রকাশ (স্টল নম্বর ৮৭৩ ও ৮৭৪) ও ৩. বেঙ্গল বুকস (স্টল নম্বর ৬১৭ ও ৬২১) ।

এদিকে, অমর একুশে বইমেলার ১৭তম দিনে শনিবার নতুন বই এসেছে ১৫৭টি। মেলায় শনিবার ছিল শিশুপ্রহর। সকাল ১১টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় কবিতা আবৃত্তি। কবিতাপাঠে অংশ নেন প্রায় ৩০জন কবি ও আবৃত্তিশিল্পী এবং ২টি আবৃত্তি সংগঠন (এনামুল হক জুয়েলের পরিচালনায় জাতীয় আবৃত্তি পরিষদ এবং মো. রবিউল আলম রবির পরিচালনায় শিশু নন্দন)।

বিকেল ৩টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবর্ষ : মুসলিম সাহিত্য সমাজ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোরশেদ শফিউল হাসান। আলোচনায় অংশ নেন মমতাজ জাহান। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।

মোরশেদ শফিউল হাসান বলেন, সাহিত্যিক সংগঠন বা গোষ্ঠী হিসেবে মুসলিম সাহিত্য সমাজের যাত্রা শুরু হয়। বাংলা ভাষায় সাহিত্যচর্চার উদ্দেশ্য নিয়েই ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় মুসলিম সাহিত্য সমাজ। মুসলিম সাহিত্য সমাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেখকেরা মূলত সে সময়কার প্রচলিত সাহিত্যিক বাংলাতেই তাঁদের লেখালেখি করেছেন, যে ভাষাতে হিন্দু ও মুসলমান নির্বিশেষে সকলেই সাহিত্যচর্চা করতেন। বাঙালি মুসলমানের জন্য বাংলা ভাষা চর্চা কিংবা শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে এ ভাষার অপরিহার্যতার বিষয়টি গোঁড়া থেকেই মুসলমান সাহিত্য সমাজের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের চিন্তায় গুরুত্ব পেয়েছিল।

তারা মনে করতেন মাতৃভাষার মধ্য দিয়েই জগতের ভাবধারার সঙ্গে সমাজকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া উচিত, তা হলেই আমাদের পক্ষে উন্নতির পথে অগ্রসর হওয়া সহজ হবে। বাঙালি মুসলমানের বুদ্ধিবৃত্তিক ও আর্থিক দারিদ্র্েযর জন্য তারা মাতৃভাষা নিয়ে বাঙালির দ্বিধান্বিত অবস্থান ও হীনম্মন্যতাকে দায়ী করেছিলেন।

মমতাজ জাহান বলেন, মুসলিম সাহিত্য সমাজ তথা শিখা গোষ্ঠীর সদস্যরা আমাদের চিন্তা-চেতনা জগতে বিস্ময়কর প্রভাব রেখে গেছেন। তারা সবাই ছিলেন উচ্চশিক্ষিত, যার ফলে শিখা গোষ্ঠীর মধ্যে আধুনিক চেতনা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। তারা নারীশিক্ষার ওপরও জোরারোপ করেছিলেন। ভাষার প্রশ্নে তারা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে মাতৃভাষা তথা বাংলা ভাষাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, শিখা গোষ্ঠীর সমসাময়িককালে অসামান্য আধুনিকতা এবং আমাদের জন্য পরিদর্শনমূলক ভূমিকা পালন করেছে। এই গোষ্ঠীর লেখকদের রচনাগুলোকে যদি আমরা ঐতিহাসিকভাবে এবং পরিপ্রেক্ষিতের মাঝে স্থাপন করে পাঠ করতে পারি, তাহলে তা আরো ফলপ্রসূ হবে।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন কবি জাকির আবু জাফর, কথাসাহিত্যিক—অনুবাদক শাকির সবুর, প্রাবন্ধিক রাজীব সরকার এবং গবেষক খান মাহবুব।

বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram