

পবিপ্রবি প্রতিনিধি: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) ও জিয়া পরিষদ, পবিপ্রবি ইউনিটের উদ্যোগে নবনিযুক্ত পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টায় পবিপ্রবির টিএসসি কনফারেন্স রুমে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো: আতিকুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন ড. এ.বি.এম. সাইফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবনিযুক্ত পবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, ইউট্যাব, জিয়া পরিষদ ও সংবর্ধনা কমিটির নেতৃবৃন্দ, পবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে নবনিযুক্ত দুই উপাচার্যের কর্মজীবন ও শিক্ষা-গবেষণায় অবদানের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা হয়। এরপর আয়োজকদের পক্ষ থেকে দুই উপাচার্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ইউট্যাব, জিয়া পরিষদ এবং ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও তাদের শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, “উপাচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারলেই আমি নিজেকে সফল মনে করব। আমি এ দায়িত্বকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি। মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে পদ, পদবি, অর্থ ও ক্ষমতার মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। তাই আমি কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী। আমি চাই আমার কাজের মাধ্যমেই সবাই আমার মূল্যায়ন করুক।”
তিনি আরও বলেন, “আমি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করব। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানাই। আমরা আপনাদের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। যদি কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা বিশৃঙ্খলা দেখতে পান, তাহলে সত্যতা যাচাই করে তা গণমাধ্যমে তুলে ধরবেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত হবে।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। নবীন শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়ার সময় এককালীন নামমাত্র টোকেন ফি গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থাকে শিক্ষার্থীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুরে উৎপাদিত মাছ উত্তলোনের সময় শিক্ষার্থীদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, তাই তাদের স্বার্থ ও কল্যাণের বিষয়গুলো সর্বাগ্রে বিবেচনা করা হবে।”
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ বলেন, “মহান আল্লাহ তাআলার কাছে শুকরিয়া যে তিনি আমাকে উপাচার্য হিসেবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এ দায়িত্ব প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আজকের দিনটি যেমন আনন্দের, তেমনি এটি আমার জন্য একটি বড় দায়িত্ব পালনের সূচনাও।”
তিনি আরও বলেন, “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আমার প্রতি অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। তাদের সেই আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে চাই। মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আমি যেন তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারি, সে জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।”
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো: আতিকুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় দায়িত্ব গ্রহণের পর রেজিস্ট্রারের জন্য নির্ধারিত গাড়ি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমি সেটিকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেছি। আমার বিশ্বাস, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততার চর্চা এভাবেই শুরু হয়। এটি আমি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছি। আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করব।”
তিনি আরও বলেন, “উপাচার্য মহোদয় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন অকার্যকর হয়ে থাকা বিভিন্ন ল্যাব ও শিক্ষাসহায়ক কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা আরও উন্নত শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পায়।”
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবু বাশার খান, পবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রাতুল, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনি, সহকারী রেজিস্ট্রার রিয়াজ কাঞ্চন, হাসিব মো. তুষার, আবু বকর সিদ্দিকসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, অধ্যাপক ও কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ইউট্যাব ও জিয়া পরিষদের পক্ষ থেকে দুই উপাচার্যের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
