

মোহাম্মদ শাহেদ হোসেন রানা, রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় সংবাদ সংগ্রহকালে এক সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে রামগড় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আনসার আলীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি গত ২২ জুন সোমবার উপজেলার ফেনীরকুল স্কেল সংলগ্ন এলাকায় ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সাংবাদিক শাহেদ রানা বলেন, আমার বাড়ীর পার্শ্ববর্তী বাড়ী থেকে ১৫ বছরের ১টি শিশু এবং ১৯ বছরের এক যুবককে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে সিভিল পোশাকে দুইজন পুলিশ সদস্য এসে তাদেরকে হ্যান্ডক্যাপ পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিচয় জানতে চাইলে এসআই আনসার আলী বলেন তুই কে? আমি সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরে ওই পুলিশ সদস্য আরও খারাপ ব্যবহার করতে থাকে এবং বলে তুই কিসের সাংবাদিক তোরা ভন্ড, বেশি বাড়াবাড়ি করলে আসামিদের সাথে তোকেও থানায় নিয়ে যাব এসব বলে উপস্থিত এলাকাবাসীর সামনে এসআই আনসার আলী তার সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন এবং তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন। এতে তিনি মানসিকভাবে বিব্রত ও পেশাগতভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের দায়িত্ব পালন করেন। সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া বা সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাভাবিক কার্যক্রমের পরিপন্থী।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই মো. আনসার আলীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাজির আলমকে রামগড় প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ বিষয়টি জানালে তিনি ভুক্তভোগী সাংবাদিক শাহেদ রানার কোন বক্তব্য না নিয়ে এসআই আনসার আলীর পক্ষ নিয়ে সাফাই গান।
এ ঘটনায় সাংবাদিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের হয়রানি ও প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ সামনে আসে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
