

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ এলাকায় জনসম্মুখে উলঙ্গ করে হাসেম মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করে রক্তাক্ত ও জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় শিপু ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাসেম মিয়ার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ এলাকায় জনসমাগমের মধ্যে হাসেম মিয়াকে আটক করে মারধর করা হয়।
পরিবারের দাবি, হামলার সময় হাসেম মিয়াকে ইট ও হাতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতরভাবে আহত ও রক্তাক্ত হন। শুধু মারধর নয়, তাঁকে প্রকাশ্যে অপমান-অপদস্থ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলার একপর্যায়ে হাসেম মিয়াকে উলঙ্গ করে নির্যাতন করা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপবাদ ও অভিযোগ তুলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, ঘটনাটি হঠাৎ করে ঘটেনি। পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাসেম মিয়াকে হেনস্তা ও সামাজিকভাবে অপদস্থ করার উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। মারধরের পর উল্টো তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগ দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা বলেন, কোনো ব্যক্তিকে জনসম্মুখে এভাবে মারধর ও অপমান করার ঘটনা শুধু ভুক্তভোগীর জন্য নয়, পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও উদ্বেগের। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় অভিযুক্ত শিপু ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান পরিবারের সদস্যরা।
আহত হাসেম মিয়ার যথাযথ চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাঁকে ভয়ভীতি, হুমকি কিংবা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
তবে পরিবারের আনা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিপু ও তাঁর সহযোগীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
