

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, “আল্লাহ্’র ওয়াস্তে ১৭ বছরের নিপীড়ন নির্যাতন যেন আমরা ভুলে না যাই। আল্লাহ্’র ওয়াস্তে লক্ষ লক্ষ যে মামলা আমাদের নামে হয়েছে তা যেন ভুলে না যাই। আমাদের ছেলে-পেলে, ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপির নেতা-কর্মীরা ধান ক্ষেতে, পাট ক্ষেতে নদীর মধ্যে ঘুমিয়েছে রাতের পর রাত এটা যেন ভুলে না যাই। এখন একটা সময় এসেছে অনেকেই আমাদের সাথে মিশতে চাইবে, অনেকেই আমাদের কাছে আসতে চাইবে, আমরা মন খুলে সবাইকে ওয়েলকাম জানাই যে আপনারা আসেন। কিন্তু সতর্ক থাকবেন যখন আপনারা নেতা নির্বাচন করবেন, সতর্ক থাকবেন যখন আপনার প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। সতর্ক থাকবেন আপনারা দলের ও দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব কার হাতে সমর্পণ করছেন সেদিকে।”
সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন। এর আগে একই স্থানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নিবন্ধিত বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলার ক্যাপিটেশন গ্রান্টপ্রাপ্ত বেসরকারি এতিমখানা ও স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাগুলোর মধ্যে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করেন।
বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস এর সভাপতিত্বে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ।
প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল আরও বলেন, এখনও দেখা যায় অনেকে ইনহাউজ-অফহাউজে এমনভাবে বক্তব্য দেয় যা শুনলে মনে হয় ওই ১৭ বছর যারা উড়ে এসে জুড়ে বসেছিলো আমরা মনে হয় সেভাবেই উড়ে এসে জুড়ে বসেছি। আমি তাদের বলতে চাই, ভুলে যাইয়েন না বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণ ও ভোটাররা ভোট দিয়ে আমাদেরকে এখানে বসিয়েছে। আমরা চুরি করে এখানে বসি নাই। মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমরা এসেছি, ওই সম্মানটা আমাদেরকে দিতে হবে। আমাদের ভিতরে ঢুকে আমাদের মধ্যে বিবেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করবেন না।
কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে। খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি যেন খরায় কৃষকরা পানি পায়। কৃষি কার্ড চালু করা হয়েছে যার মাধ্যমে কৃষকেরা অনেক রকমের সুবিধা পাবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সম্মানিত হবেন।
তিনি সার সংকট প্রসঙ্গে বলেন, সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যারা ডিলারশীপ নিয়েছিলো তারা অনেকেই দেশ থেকে ভেগে গেছে, আশে-পাশে থাকে না, সার উত্তোলন করে না, বিক্রি করে না। যার ফলে এই সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা সার সংকট নিরসন করার জন্য কাজ করছি। প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যাতে কেউ সার সংকট তৈরি করতে না পারে।
এ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র সদস্য এ্যাড. আব্দুল কাদের ও সাবেক সদস্য জামালউদ্দিন আলী, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম মোল্লা ও সাবেক দপ্তর সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, ২০১০ সালে আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের হামলায় নিহত তৎকালীন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ নূর বাবুর সহধর্মীনি মহুয়া নূর কচি সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
