

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে নতুন ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরুর ২ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি ব্রিজের কাজ। উপজেলার রাধাবল্লভ রাজারঘাট এলাকায় প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ওই সেতুটির পুরাতন কাঠামো ভেঙে ফেলার দীর্ঘ সময় পরও কাজের ৫০ শতাংশও সম্পন্ন হয়নি।
এদিকে বিকল্প হিসেবে পাশে একটি কাঠের পাঠাতন দিয়ে সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। ব্রিজ নিমাণে দীর্ঘসুত্রিতার কারণে নড়বড়ে কাঠের সাঁকোয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও ছোট খাট বিভিন্ন যানবাহন। ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপারে হাজারো মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠলেও নীরব ভূমিকায় কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, উপজেলা শহর থেকে রাণীগঞ্জ ও উলিপুরগামী সড়কের রাধারল্লভ রাজারঘাট এলাকায় তিস্তা খালের উপরের সেতুটি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরে সেটিকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি নতুন আরসিসি গার্ডার ব্রিজের কাজ শুরু করা হয়। বাংলাদেশ সরকার ও এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের জরুরী সহায়তায় বন্যা ২০২২ এ ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামীণ অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের অধীনে ২০২৪ সালে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।
এজন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১০ কোটি ৯৮ লক্ষ ৮৬ হাজার ৪৩২ টাকা। কাজটি সম্পাদন করার জন্য কুড়িগ্রামস্থ মেসার্স এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড সেমার্স খায়রুল এন্টারপ্রাইজ(জয়েন ভেঞ্চার) এর সাথে চুক্তি সম্পাদিত হয় ২০২৩ সালের ২৮ আগষ্ট তারিখে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর তারিখে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল তারিখে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সেই মেয়াদ অতিক্রম হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অর্ধেকের বেশি কাজই বাকী রয়ে গেছে।
এদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজের শুরুতেই পুরাতন ব্রিজটি ভেঙে মানুষ চলাচলের জন্য অস্থায়ীভাবে পাশেই কাঠের পাটাদান দিয়ে একটি সাঁকো নির্মাণ করে। কাজ শুরুর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কাজের ৫০শতাংশ কাজও শেষ হয়নি। ব্রিজ নির্মাণের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে নড়বড়ে কাঠের সাঁকো দিয়ে প্রতিনিয়ত পারাপার হচ্ছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ও ছোট খাট অসংখ্য যানবাহন। সাকোঁটি ন্যারো এবং নড়বড়ে হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপারে হাজারো মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠলেও নিরব ভূমিকায় কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজ নির্মাণের জন্য বেধে দেয়া সময় পেরিয়ে গেলেও ব্রিজ নির্মাণ কাজের ৫০ শতাংশ কাজও করা হয়নি। কাজের ধীরগতির ফলে অস্থায়ী ভিত্তিতে নির্মিত কাঠের সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ফলে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় রকমের দুর্ঘটনা। জনদুর্ভোগের এই স্থায়ী অবসান ঘটাতে বরাদ্দকৃত ওই সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান বলেন, ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ায় আমার মালামালবাহী ট্রাক দোকান পর্যন্ত আনতে পারছি না। ফলে ব্রিজের অপর প্রান্তে মাল নামিয়ে ছোট পরিবহনে আনতে অনেক বেশি খরচ গুনতে হচ্ছে। এতে ব্যবসায় লাভ না হয়ে বরং লোকসানের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সফিকুল ইসলাম জানান, ব্রিজ নির্মাণের ধীরগতির কারণে নড়বড়ে জীর্ণ কাঠের সাঁকোর উপর দিয়ে প্রতিনিয়ত প্রায় লক্ষাধিক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। ব্রিজের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার লেলিন এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী মো.জুলফিকার আলী বলেন, ব্রিজটির ব্যতিক্রমী নকসার জন্য বিশেষ পারদর্শী মিস্ত্রি দরকার। মিস্ত্রির অভাবে নির্মাণ কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। কাজের প্রায় ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। বর্তমানে কাজ চালু রয়েছে বাকী কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।
