ঢাকা
logo
প্রকাশিত : August 14, 2026

হিলিতে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ৭ মাসে ৪৫২ জন আটক

হিলি প্রতিনিধি: দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা হিলিতে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। শুধু মাদক বহনকারী বা সেবনকারী নয় এর নেপথ্যে থাকা সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতেও চলছে নজরদারি। এদিকে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। এমন অভিযান যেন নিয়মিত হয় সেই দাবী তাদের।

হাকিমপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৩ই আগষ্ট পর্যন্ত মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ৮৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক সেবনকারী ২৪২ জনকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া মাদকসেবনের দায়ে ২১০ জনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। সর্বমোট ৪৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে থানা পুলিশ।

হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান বলেন, হাকিমপুর উপজেলা একটি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে মাদকের বিস্তার অনেক। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় হাকিমপুর থানা পুলিশ যে কর্মকান্ড পরিচালনা করছে আমরা হাকিমপুর থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। মাদকের সাথে কোন আপোষ নেই। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশের সাড়াশি অভিযান চালাতে যে কোন সহায়তা প্রয়োজন পুলিশকে আমাদের পক্ষ থেকে সেই সহায়তা করা হবে। পুলিশের এমন অভিযান অব্যাহত থাক সেটা আমরা চাই।

হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হিলি স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বলেন, মাদকসেবীদের চিহ্নিত করার জন্য উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এবং মাসিক সভায় মাদক সেবনকারীদের চিহ্নিত করার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার এক ধরনের ডিভাইস মেশিন পাওয়া যায় সেটাকে কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে হিলির মাদক প্রবণতা আরো কমে আসবে সেই সাথে মাদক সেবীদের চিহ্নিত করা যাবে। বর্তমান উপজেলা প্রশাসন ও থানার ওসি মাদকের বিরুদ্ধে যে কর্মকান্ড চালাচ্ছে আমরা এজন্য পুলিশ প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাই। তাদের এই কাজে আমরাও প্রশাসনকে সহযোগিতা করছি। বর্তমানে হিলির মাদক অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক আরো নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলেও মনে করেন তিনি।

হাকিমপুর উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু পুলিশ কেন প্রশাসনের একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। মাদকে ভয়াল থাবা থেকে আমাদের সন্তানদের বাচাতে ও দেশকে রক্ষা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে মাদকের বিরুদ্ধে সকলকে সতর্ক হতে হবে। কারা কারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ও কারা মাদক সেবন করে সেই তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করতে হবে। সেই সাথে মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক সভা করতে হবে এর কুফল সম্পর্কে সকলকে অবগত করতে হবে। সবাই যদি নিজ নিজ স্থান থেকে এগিয়ে আসে তবেই হিলিতে মাদক নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও জানান তিনি।

হাকিমপুর উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আল ইমরান বলেন, মাদকের নিয়ন্ত্রণে পুলিশ যে কার্যক্রম চালাচ্ছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাদের নিয়মিত অভিযান ও কঠোর তৎপরতা এলাকার যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মঙ্গল বয়ে আনছে। আগে আমাদের গ্রামগঞ্জে মাদকের ভয়াল থাবা ছিল। হাত বাড়ালেই সহজে মাদক পাওয়া যেত। তবে পুলিশের কঠোর তৎপরতা ও অভিযানের কারণে পরিস্থিতির অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। আগে মাদক যতটা সহজলভ্য ছিল, এখন তা অনেকটাই কঠিন হয়ে গেছে। তবে বর্তমানে যারা দুই একজন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে। আমরা চাই, পুলিশের এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকুক এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের সমাজ সম্পূর্ণভাবে মাদকমুক্ত হোক।

হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করেছেন। সেই মোতাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনায় পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্বাবধানে ও সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপারের সহযোগীতায় মাদক নিয়ন্ত্রণে হাকিমপুর থানা পুলিশ নিয়মিতভাবে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। যেহেতু হিলি একটি সীমান্তবর্তী এলাকা এখানে মাদকের একটা সহজলভ্যতা থাকে সেই বিষয়টি মাথায় রেখে শুরু থেকেই কাজ করে আসছি। মাদকের বিরুদ্ধে কোন ছাড় নেই যারই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। সেই সাথে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিণ্ঠান ও বিভিন্ন স্কুল কলেজে মাদক বিরোধী সেমিনার করা হচ্ছে। যদি কেউ মাদক ব্যাবসায়ীদের ছাড়করনে কোন ধরনের সুপারিশ বা তদবির করেন তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়াও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগীতা করার আহবান জানানো হচ্ছে। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় হাকিমপুর থানা এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ ন ম নিয়ামত উল্লাহ্ বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধী। এটি নিয়ন্ত্রনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ার কারনে এই উপজেলাতে সহজেই মাদক পাওয়া যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে পুলিশের পাশাপাশি সচেতন সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। সেই সাথে সীমান্তঘেঁষা হাকিমপুরের ভৌগোলিক অবস্থান মাদক নিয়ন্ত্রণকে পুলিশের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ফলে শুধু খুচরা বিক্রেতা বা সেবনকারীদের আটক নয়, মাদকের সরবরাহ ব্যবস্থার মূল হোতাদের শনাক্ত করাই এখন বড় পরীক্ষা বলে মনে করছেন এই কর্মকর্তা।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram