

হাসমত আলী, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির ফলাফল ও তালিকা নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তালিকায় বিএনপির দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন না করে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী।
বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যার পর কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে দাড়িয়ে ভিডিও বার্তায় মোহাম্মদ আল-আমিন হোসেন নামে নিজেকে থানা ছাত্রদলের সদস্য পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় ছাত্রদল ও যুবদলের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
আল-আমিন হোসেন তালিকায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে নতুন করে তালিকা প্রকাশের দাবি জানান।
ভিডিও বক্তব্যে তিনি বলেন, উপজেলা কর্তৃক আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড শুমারির ফলাফল প্রকাশের পর তিনি দেখতে পান, কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত তালিকায় বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে। তার অভিযোগ, আত্মীয়করণ ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তালিকা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন ছাত্রদল ও যুবদলের পক্ষ থেকে বিএনপি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে এ ঘটনার জবাবদিহিতা দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
অপর এক ছাত্রদল নেতা অভিযোগ করেন, কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন ছাত্রদলের দীর্ঘদিনের নেতা-কর্মীদের অনেকেই ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তালিকায় স্থান পাননি। এমনকি তিনি নিজে সুপারভাইজার পদে পরীক্ষা দিলেও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এ ক্ষেত্রেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করেন তিনি।
বক্তারা তালিকায় থাকা কয়েকজনের নামও প্রকাশ্যে পড়ে শোনান। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ নাসিম হোসেন, মিরাজুল ইসলাম, জাবেদ ওমর, শাহীন আলম, তানিয়া, জসিম উদ্দীন, ওমর ফারুক, তুহিন শেখ, মেহেরুন্নেসা, হাসিবুল হাসান হাবিব, লালচাদ বাদশা ও মোহাম্মদ রেজাউল পারভেজের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অপেক্ষমাণ তালিকায় মোহাম্মদ জুবাযায়েব হকের নাম রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, তালিকায় থাকা অধিকাংশ পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় বিএনপির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তারা প্রকাশিত ফলাফল পুনর্বিবেচনা করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন তালিকা প্রকাশ এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শামীম হোসেন বলেন, এখানে বৈষম্য করা হয়েছে। আমরা যারা সুপারভাইজার পদে পরীক্ষা দিয়েছি, আমাদের বিশ্বাস ছিল আমরা শতভাগ উত্তীর্ণ হব। কিন্তু টাকা-পয়সা কিংবা কারও প্রভাবের কারণে আমাদের ফলাফল অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। সুপারভাইজার পদে যে চারজন উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের মধ্যে তিনজনই আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ বিএনপি কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির ফলাফলে নাম না থাকায় ছাত্রদল-যুবদলের একাংশ বিএনপি অফিসে তালা মেরে দেয়। দীর্ঘদিন নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের তালিকায় নাম না থাকায় এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
