

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রাহুৎকাঠী বন্দরে সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগ উঠেছে এক নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জমিটি দখলমুক্ত করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে পুনরায় দখল প্রতিষ্ঠার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাহুৎকাঠী বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি খাসজমি দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখে দোকানঘর ও বসতঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবহার করা হচ্ছিল। সরকারি জমি দখলের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে খাসজমি উদ্ধারে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ আগস্ট বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্নার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সময় সরকারি খাসজমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা ও দখলের চিহ্ন উচ্ছেদ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, একই দিন রাতে, ওই জমিতে আবার দখল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগের তীর নার্গিস বেগম নামে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের এক নারী ইউপি সদস্যের দিকে। এমনকি প্রশাসনের উচ্ছেদের পর রাতেই জমিটি পুনরায় দখলে নেওয়া হয়েছে বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন।
একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে সরকারি খাসজমি দখল ও প্রশাসনের উচ্ছেদ কার্যক্রমের পর পুনরায় দখলের অভিযোগ ওঠায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রশাসনের অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যদি সরকারি জমিতে আবার দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়, তাহলে এর পেছনে কারা রয়েছে এবং দখলদাররা কীভাবে এতটা প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সরকারি জমি দখলমুক্ত করার পর তা পুনরায় দখলের চেষ্টা করা হলে শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। সরকারি খাসজমির সীমানা নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুনরায় দখল ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য নার্গিস বেগম বলেন, এই জমিটি আমাদের পৈত্রিক জমি। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। কিন্তু প্রশাসন তাদের ক্ষমতাবলে আমাদের দোকানঘর উচ্ছেদ করেছে।
অন্যদিকে, বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, সরকারি খাসজমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বা পুনরায় দখলের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
