

পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি: নরসিংদীর পলাশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা ভুয়া খাজনার দাখিলা ব্যবহার করে দলিল রেজিস্ট্রি করার সময় রিফাত মোল্লা (২৪) নামের এক কথিত সিভিল কোর্ট কমিশনারকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে পলাশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
গ্রেফতারকৃত রিফাত মোল্লা শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের দক্ষিণ সাধারচর গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেকে নিবন্ধিত একজন সিভিল কোর্ট কমিশনার হিসেবে পরিচয় দিয়ে দলিল লেখা, জমি পরিমাপসহ ভূমি সংক্রান্ত নানা কাজ করে আসছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে পলাশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের একটি জমির দলিল রেজিস্ট্রি করার জন্য আসেন রিফাত মোল্লা। এ সময় তার দাখিলকৃত খাজনার দাখিলা রশিদ দেখে সাব-রেজিস্টার মো. মিজানুর রহমানের সন্দেহ হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বিষয়টি পলাশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাকীন মাশরুর খানকে অবহিত করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, খাজনা পরিশোধ করার কথা বলে ভুক্তভোগী স্বপন মিয়ার কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নেন রিফাত। কিন্তু ভূমি অফিস থেকে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা না দিয়ে, তিনি নিজে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে একটি ভুয়া খাজনার দাখিলা তৈরি করে দলিল রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দেন।
খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেন। প্রাথমিক যাচাইয়েই দাখিলাটি সম্পূর্ণ জাল বলে প্রমাণিত হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তকে আটক করে পলাশ থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় পলাশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী আমেনা বেগম বাদী হয়ে রিফাত মোল্লাকে আসামি করে জাল-জালিয়াতি ও ভূমি উন্নয়ন কর জালিয়াতির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন (পলাশ থানার মামলা নং- ১০,তারিখ ১৩/০৮/২০২৬ইং)।
এ বিষয়ে পলাশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাকীন মাশরুর খান জানান, সাব-রেজিস্টারের সন্দেহের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অপরাধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ভূমি সংক্রান্ত প্রতারণা রোধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
