

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুগ্ম ও দায়রা জজ আদালতের এজলাস ও বিচারকের খাসকামরায় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। জামিন না দেয়া এবং বিজ্ঞ বিচারক কর্তৃক বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রুপ মন্তব্যের ঘটনায় আদালত কক্ষে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ঐ বিচারককে ৭২ ঘন্টার মধ্যে অপসারণ করা না হলে, পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচির আল্টিমেটাম দেন ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা।
আজ রোববার দুপুরে জেলা যুগ্ম ও দায়রা জজ আদালত ও স্পেশাল ট্রাইবুনাল-০৪ এর বিচারক মোঃ উজ্জল মাহ্মুদ এর আদালতে একটি বিষ্ফোরক মামলার শুনানি চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় যুবদল নেতা তুফান আলীকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রোববার মামলাটির শুনানির সময় ওয়ারেন্টভুক্ত আরও চার আসামির জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। এ সময় আদালতকক্ষে বিদ্যুৎ না থাকাকে কেন্দ্র করে বিচারকের একটি বিরুপ মন্তব্যের পর উপস্থিত ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিচারকের খাসকামরার দরজার কাঁচ এবং এজলাসের জানালার কাঁচ ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আদালত সূত্র আরও জানায়, মামলাটিতে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের আরও চার নেতাকর্মীর জামিন মঞ্জুর হলেও; যুবদল নেতা তুফান আলীর জামিনের বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না আসায় আদালতকক্ষে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
এদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা এই উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য বিচারককেই দায়ী করেন। তারা জানান, বিচার চলাকালে একজন বিচারক বিচার বর্হিভুত ও সরকার বিরোধী বক্তব্য দিতে পারেন না। আর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে ভাঙচুরের ঘটনার বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম টিপুর বক্তব্য ভিন্ন। তিনি দাবি করেন, আদালতের নথি ও কার্যতালিকার সঙ্গে গড়মিল থাকায় আগের ধার্য তারিখে আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপনের পর চার আসামির জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক। তার দাবি, আদালতে বিদ্যুৎ না থাকা নিয়ে বিচারকের বক্তব্য এবং আদালতকক্ষে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আদালতের পিপি আবদুল ওদুদ আদালতের ভেতরে এমন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি ঘটনায় জড়িতদের বহিরাগত ও দুষ্কৃতকারী বলে উল্লেখ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
অন্যদিকে, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসিব ঘটনাটিকে বিচার ব্যবস্থার উপর হুমকি এবেং ‘মব কালচার’ হিসেবে উল্লেখ করে জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় ঐ বিচারককে ৭২ ঘন্টার মধ্যে অপসারণ করা না হলে, পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচীর আল্টিমেটাম দেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মীম ফজলে আজিম ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য-সচিব বাবর আলী রুমন।
