

আটঘরিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ত্বাহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার দুই শিক্ষককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও অসত্য মন্তব্যের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় বগদী গ্রামের ইকরাম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ রোববার (৯ আগস্ট) উপজেলার শিবপুর এলাকায় ত্বাহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার দুই সম্মানিত শিক্ষক মো. শামছুল আলম (মঞ্জু মাস্টার) ও মোছা. আফরোজা ম্যাডামকে নিয়ে আলাউদ্দিন, টিপু, রাহিমুন ও নূরুন নবীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও অসত্য মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে।
এর প্রতিবাদে এলাকাবাসীর উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন চলাকালে ৮/১০ জনের একটি গ্রুপ এসে ব্যানার টেনে ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন আয়োজকরা।
এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি ফাঁকা গুলি এবং অপর গুলিটি ইকরাম মোল্লা নামক এক ব্যক্তির ডান পায়ে গুলি লাগে। এসময় তিনি গুলি খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়া কয়েকজনের অভিযোগ, গুরুবাসী গ্রামের ওয়াহেদ আলী বিশ্বাসের ছেলে টিপু বিশ্বাসের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে প্রথমে মানববন্ধনের ব্যানার টেনে ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ইকরাম মোল্লাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় বলে তারা দাবি করেন। গুলির শব্দে মুহূর্তের মধ্যে মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে পুনরায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন আব্দুল হোসেন, আমিরুল ইসলাম, সামাদ মোল্লা ও বকুল হোসেন।
বক্তারা বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করছিলাম। এ সময় একদন্ত ইউনিয়নের গুরুবাসী গ্রামের ওয়াহেদ আলী বিশ্বাসের ছেলে টিপু বিশ্বাসসহ ৮ থেকে ১০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী এসে মানববন্ধনের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং মানববন্ধন করতে নিষেধ করে। এ সময় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে টিপু বিশ্বাস তার কোমর থেকে পিস্তল বের করে ফাঁকা ফায়ার করে এবং পরে ইকরামকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ইকরামের ডান পায়ে গুলি লাগার পর তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এমতাবস্থায় টিপু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে ইকরামকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। খবর পেয়ে আটঘরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলির খোসা উদ্ধার করে। আহত ইকরাম মোল্লাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু বলেন, একটি কুচক্রী মহল আমার পেছনে লেগেছে। আমাকে এখান থেকে বিতাড়িত করতে চায়। এলাকার কিছু মানুষকে ভুল বুঝিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তারা। আমি কোনো অনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে কখনোই জড়িত ছিলাম না। আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
হামলা ও গুলিবর্ষণের বিষয়ে অভিযুক্ত টিপু বিশ্বাস ও তার সহযোগীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের পাওয়া বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গুলির খোসা পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় কেউ এখনও অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উত্তেজনা থাকায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
