

রমজান আলী, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদে অফিস চলাকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা আরমান কবির, যিনি একই সময়ে একটি এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে সরকারি অফিস সময়জুড়ে উদ্যোক্তার সেবা কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এসে অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেউ কেউ প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন। একাধিক সেবাপ্রার্থী জানান, দিনের বেলায় উদ্যোক্তাকে না পেয়ে তাঁদের বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় আবার আসতে বলা হয়। এতে সময় ও অর্থ—দুইয়েরই অপচয় হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কালিয়াইশ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরমান কবির প্রাণহরি উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত। বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তিনি ইউনিয়ন পরিষদে এসে উদ্যোক্তার দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় চার বছর ধরে এভাবেই দুটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবাপ্রার্থী অভিযোগ করেন, অফিস সময়েই উদ্যোক্তার সেবা না পাওয়ায় তাঁদের বারবার ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হচ্ছে। এতে জনভোগান্তি বাড়ছে।
এ বিষয়ে কালিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোহাম্মদ খসরু সিকদার বলেন, “বর্তমানে দিনের বেলায় অভি বড়ুয়া উদ্যোক্তার দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি একই সঙ্গে গ্রাম আদালতের সহকারী হওয়ায় সব সময় উদ্যোক্তার দায়িত্বে থাকতে পারেন না। মূল উদ্যোক্তা হিসেবে আরমান কবিরের দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও তিনি দিনের বেলায় স্কুলে চাকরি করেন। ফলে অনেক সেবাপ্রার্থী প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে ফিরে যান।”
তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে একজন পুরুষ ও একজন মহিলা উদ্যোক্তা থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে সেই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে না থাকায় জনসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে দ্রুত নিয়মিত উদ্যোক্তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”
এদিকে কয়েকজন সেবাপ্রার্থী অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সরকারি ফি-এর বাইরে বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। তবে কত টাকা এবং কোন কোন সেবার বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে তাঁরা প্রকাশ্যে নাম বলতে রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে আরমান কবির বলেন, বিদ্যালয়ের দায়িত্ব শেষে তিনি সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদে এসে প্রয়োজনীয় কাজ করেন। ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব সরকারি চাকরি নয় উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তাঁর একজন সহকারী নিয়মিত সেবা দেন এবং যেসব কাজ তাঁর উপস্থিতিতে করতে হয়, সেগুলো তিনি সম্পন্ন করেন।
একজন ব্যক্তি একাধিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যথাযথভাবে সময়ের সমন্বয় করেই তিনি দুটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, “বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা পদ যদি অফিস চলাকালীন সময়ে জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার জন্য হয়ে থাকে, তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি একই সময়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে জনসেবা কীভাবে নিশ্চিত হচ্ছে? বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
