

শাহ সারওয়ার, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ সদরের রশিদাবাদ ইউনিয়নের সীমান্তপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী যুবক আনিসের জীবন যেন সংগ্রামের আরেক নাম। ঝালমুড়ি বিক্রেতা বাবা ছিদ্দিকের অতি দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া আনিস মাত্র পাঁচ বছর বয়সে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধিতার শিকার হন। একইভাবে তার বোন আমেনাও প্রতিবন্ধী হলেও দুজনেই শিক্ষার আলো থেকে পিছিয়ে পড়েনি। আনিস অনার্স ও মাস্টার্স এবং আমেনা বিএ সম্পন্ন করেছেন।
আনিসের মায়ের স্বপ্ন ছিল, তার দুই সন্তান একদিন সরকারি চাকরি করে মাথা উঁচু করে বাঁচবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই ২০২২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আজও মায়ের সেই অপূর্ণ স্বপ্ন বুকে নিয়ে ছুটে চলেছেন আনিস।
তিনি জানান, সরকারি চাকরির আশায় এখন পর্যন্ত ৩০০ থেকে ৪০০টিরও বেশি লিখিত পরীক্ষা ও ভাইভায় অংশ নিয়েছেন, কিন্তু একটি চাকরিও পাননি। সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমাও আর মাত্র ছয় থেকে সাত মাস বাকি। কথা বলতে গিয়ে চোখ ভিজে আসে তার।
তিনি বলেন, "আমি করুণা চাই না, চাই আমার যোগ্যতার মূল্যায়ন। আমার মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে একটি সরকারি চাকরি চাই। আর জীবনে একবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আমার সংগ্রামের গল্প বলতে চাই।"
আনিসের এই সংগ্রামের গল্প শুধু একজন মানুষের নয়, এটি হাজারো শিক্ষিত প্রতিবন্ধী তরুণের স্বপ্ন, বঞ্চনা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতিচ্ছবি। এখন দেখার বিষয়, তার দীর্ঘদিনের অপেক্ষা আর প্রয়াত মায়ের স্বপ্ন পূরণে সংশ্লিষ্টদের মানবিক উদ্যোগ আসে কি না।
