

তারেক পাঠান, পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি: নরসিংদীর গুরুত্বপূর্ণ সওজের পাঁচদোনা-চরসিন্দুর আঞ্চলিক সড়কটি এখন নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য এক চরম আতঙ্কের নাম। এই সড়কের বিভিন্ন অংশে দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য মরা ও শুষ্ক গাছ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি কিংবা হালকা বাতাসেই ডালপালা ভেঙে বা গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এই পথ দিয়ে চলাচলকারী লাখো মানুষ।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্যস্ততম এই সড়কের আমতলা থেকে চর্ণগরদী এবং জামতলা বাজার পার হয়ে বালিয়া যাওয়াসহ বিভিন্ন অংশে মরা গাছের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সড়কের দুই পাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এসব মৃত গাছের কারণে সবসময় দুর্ঘটনার শঙ্কা বিরাজ করে। একটুও অসাবধানতা কিংবা হালকা বাতাস বাড়লেই যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নরসিংদী ছাড়াও বিভিন্ন জেলার অন্তত হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি বজায় থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না।
রাস্তাটিতে দীর্ঘদিন ধরে মরা গাছের এমন চিত্র থাকলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। দেখেও না দেখার ভান করে থাকার কারণে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যাতায়াতকারীরা জানিয়েছেন, একটু এদিক-সেদিক হলেই যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে তাজা প্রাণ ঝরে যেতে পারে।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ভুক্তভোগী ও সাধারণ পথচারীরা জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে উদাসীনতা ভেঙে দ্রুত এই আঞ্চলিক সড়কগুলো থেকে ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছগুলো চিহ্নিত করে অপসারণ করবে এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ বিষয়ে নরসিংদী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা-ই-রাব্বি জানান, সড়কের দুই পাশের ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছগুলোর তালিকা তৈরি করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী বৃক্ষপালনবিদ বরাবর পত্র প্রেরণ করা হবে। জনসাধারণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে খুব শীঘ্রই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
