ঢাকা
logo
প্রকাশিত : July 22, 2026

‘আমার শেষ সম্বলটুকুও শেষ হয়ে গেছে’—বন্যায় কলাবাগান হারিয়ে কান্নায় কৃষক

রমজান আলী, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন প্রবাসে কাটিয়েছেন। জীবনের শেষ সময়ে দেশে ফিরে কৃষি কাজকে অবলম্বন করে নতুন করে স্বপ্ন দেখেছিলেন কৃষক আলহাজ্ব ইসমাইল হোসেন। প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ করে ৮০ শতক জমিতে গড়ে তুলেছিলেন প্রায় ১ হাজার ৫০০ কলাগাছের বাগান। আশা ছিল, বাগান থেকে আয় করে পরিবার নিয়ে বাকি জীবনটা ভালোভাবে কাটাবেন।

কিন্তু সেই স্বপ্ন আর টিকল না। হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের পানিতে মুহূর্তেই তলিয়ে যায় তার কলাবাগান। প্রবল পানির স্রোতে একে একে ভেঙে পড়ে কলাগাছগুলো। নষ্ট হয়ে যায় প্রায় পুরো বাগান। কয়েকদিন আগেও যে জমি ছিল সবুজে ঘেরা, এখন সেখানে পড়ে আছে পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়া কলাগাছ।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের পূব ছদাহা পাহাড় কুল এ ঘটনায় চোখের সামনে নিজের শেষ সম্বল হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষক ইসমাইল হোসেন।

তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন (২৭ বছর) সৌদি আরবে ছিলাম। জীবনের শেষ বয়সে দেশে ফিরে কৃষিকাজে যুক্ত হই। অনেক কষ্ট করে মানুষের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ধার করে প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ করে এই কলাবাগান করেছিলাম। আশা ছিল, প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা বিক্রি হবে। এই আয় দিয়ে সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে চলব, ধার করা টাকা পরিশোধ করব—এমন স্বপ্ন ছিল। কিন্তু পাহাড়ি পানির ঢলে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমার শেষ সম্বলটুকুও শেষ।”

তিনি আরও বলেন, “সব টাকা এই বাগানে বিনিয়োগ করেছিলাম। এখন কীভাবে আবার শুরু করব, জানি না। সরকার ও বিত্তবানরা যদি আমার মতো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো আবার নতুন করে শুরু করতে পারব।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য তৌহিদ মেম্বার বলেন, “ইসমাইল হোসেন অনেক কষ্ট করে এই কলাবাগান করেছিলেন। বন্যার পানিতে তার পুরো বাগান নষ্ট হয়ে গেছে। একজন কৃষকের এত বড় ক্ষতি অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে দ্রুত সরকারি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।”

স্থানীয় বাসিন্দা আমান উল্লাহ বলেন, “বন্যার পানিতে শুধু ঘরবাড়ি নয়, কৃষকের স্বপ্নও ভেসে গেছে। ইসমাইল হোসেনের মতো অনেক কৃষক নিজেদের শেষ সম্বল দিয়ে চাষাবাদ করেছেন। তাদের ঘুরে দাঁড়াতে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।”

এলাকাবাসী জানান, সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ছদাহা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কৃষি, ফসল ও বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক হারিয়েছেন দীর্ঘদিনের শ্রম, সঞ্চয় ও স্বপ্ন। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত তালিকা করে আর্থিক সহায়তা, কৃষি উপকরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের বিষয়টি আমরা জেনেছি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাকে সহযোগিতা করার ব্যবস্থা করা হবে।”

কৃষক ইসমাইল হোসেনের কলাবাগান নষ্ট হওয়ার ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়—এ যেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য কৃষকের দুঃখের প্রতিচ্ছবি। জীবনের শেষ সময়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু পাহাড়ি ঢলের পানিতে সেই স্বপ্ন আজ ভেসে গেছে। এখন সরকারি সহায়তার আশায় দিন কাটছে তার।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram