

মাসুদ রানা, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: কৃষিখাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত কৃষকদের সরকারি সুবিধা নিশ্চিত করতে কৃষক কার্ড কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া।
তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি নির্ভুল তথ্যভান্ডার গড়ে উঠবে। ফলে সরকারি ভর্তুকি, কৃষি প্রণোদনা, কৃষিঋণসহ বিভিন্ন সেবা প্রকৃত কৃষকদের কাছে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন হাইব্রিড ও উফশী জাতের শাকসবজির উৎপাদন ও আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ এবং কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আলম তুহিন, গোয়ালডিহি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন লিটন, বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম প্রধান, উপজেলা বিএনপির সদস্য সাঈয়েদ আহমেদ সেলিম বুলবুল, ভেড়ভেড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম বাবুল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত কৃষকরা।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি উপকারভোগী কৃষকদের হাতে উন্নতমানের হাইব্রিড ও উফশী জাতের শাকসবজির বীজ ও প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার তুলে দিয়ে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া বলেন, সরকারের কৃষি প্রণোদনা ও কৃষক কার্ড কর্মসূচিকে শতভাগ সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কৃষকদের দেওয়া বীজ, সার ও অন্যান্য সহায়তা যথাযথভাবে ব্যবহার করা হলে শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, জাতীয় পর্যায়েও কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষিকে সম্মানজনক ও লাভজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থাপনা অনুসরণ জরুরি। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার উৎপাদন বাড়াবে, কৃষকের আয় বৃদ্ধি করবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে।
হুইপ বলেন, কৃষি প্রণোদনা ও কৃষক কার্ডের সব সুবিধা অবশ্যই প্রকৃত কৃষকদের হাতে পৌঁছাতে হবে। তথ্য সংগ্রহের সময় কোনো ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্য দেওয়া যাবে না। কারণ, ভবিষ্যতে কৃষি ভর্তুকি, প্রণোদনা, কৃষিঋণসহ সব ধরনের সরকারি সহায়তা সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই প্রদান করা হবে। তাই কৃষকদের সঠিক তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব ইউনিয়ন এবং পরে দেশের সব কৃষক এই কার্যক্রমের আওতায় আসবেন। কৃষক কার্ড শুধু ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য নয়; প্রকৃত কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত বড় কৃষক, বর্গাচাষি ও চুক্তিভিত্তিক চাষিরাও এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উন্নতমানের হাইব্রিড ও উফশী জাতের শাকসবজির বীজ এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ ও সেচসুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, সরকারি ভর্তুকি, কৃষি প্রণোদনা, কৃষি বীমা, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্র সংগ্রহ এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজারদর, রোগবালাই দমন, কৃষি প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক চাষাবাদবিষয়ক তথ্যও সহজেই জানা যাবে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কৃষকরা সরকারের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেন। তাঁদের মতে, কৃষক কার্ড চালু হলে সরকারি কৃষিসেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে এবং প্রকৃত কৃষকরাই সরাসরি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার আওতায় আসবেন। একই সঙ্গে কৃষি প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও সার পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং শাকসবজির আবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং একটি নির্ভুল কৃষক ডাটাবেজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
