

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জে রাথুরা ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার খাতায় ভুল উত্তরে নম্বর না দেওয়ায় সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন একই বিদ্যালয়ের জুনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. ওমর ফারুক শেখ। এছাড়াও ছেলেকে বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি রেখে সরকারি বই ও উপবৃত্তির টাকা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে জানা যায়, মো. ওমর ফারুক শেখ বিগত ৬ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে জুনিয়র সহকারী শিক্ষক পদে মোক্তারপুর ইউনিয়নের রাথুরা ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তার ছেলে আহনাফ শেখ ফারুক মাষ্টারের স্ত্রী ও তার বন্ধুর মালিকানাধীন বড়গাঁও মডেল কিন্ডারগার্টেনের দ্বিতীয় শ্রেণির নিয়মিত ছাত্র। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছেলেকে রাথুরা ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি দেখিয়ে সরকারি বই ও উপবৃত্তি সহ সরকারি সকল সুবিধা নিচ্ছেন।
সম্প্রতি প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষায় তার ছেলে ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষায় একটি প্রশ্নের ভুল উত্তর দিলে শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানা তাতে কোন নম্বর না দেওয়ায় ফারুক শেখ চার নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য রাজিয়া সুলতানাকে চাপ প্রয়োগ ও হুমকি প্রদান করেন। এতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত রোববার জুনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. ওমর ফারুক শেখ সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং তাকেসহ পরিবারের সদস্যদের দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাধিকা চন্দ্র দেবনাথকে ম্যানেজ করে ফারুক শেখ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও সম্প্রতি তা প্রকাশ পায়।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক মো. ওমর ফারুক শেখ ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাধিকা চন্দ্র দেবনাথের সাথে কথা বললে তারা রাজিয়া সুলতানাকে লাঞ্ছনার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে বলে জানান।
এ বিষয়ে সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানা বলেন, বিদ্যালয়ের জুনিয়র শিক্ষক মো. ওমর ফারুক শেখের ছেলে আমাদের বিদ্যালয়ে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে একটি প্রশ্নের উত্তর ভুল দিয়েছে। আমি ভুল উত্তরে নম্বর না দেওয়ায় সহকর্মী ফারুক আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে নম্বর দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং আমাকেসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিচ্ছেন। আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেছি কিন্তু এখনো কোন সমাধান পাইনি।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান বলেন, রাথুরা ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জুনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. ওমর ফারুক শেখ কর্তৃক সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানা শারিরীক লাঞ্চনার বিষয়টি শুনে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে কথা বলেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের জুনিয়র সহকারী শিক্ষক কর্তৃক সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকাকে শারীরিক লাঞ্চনার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার তদন্তপূর্বক দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
