

মাহমুদুল হাসান, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে জলাতঙ্ক (র্যাবিস) প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হচ্ছে। কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজিসহ জলাতঙ্ক বহনকারী প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের ব্যক্তিরা এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই এই জীবনরক্ষাকারী টিকা নিতে পারছেন। বিনামূল্যে টিকা পাওয়ার সুযোগে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমেছে এবং জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে সচেতনতাও বাড়ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকারিভাবে টিকা সরবরাহের ফলে রোগীদের আর বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে না। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি উপকৃত হচ্ছেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলেন, বিনামূল্যে জলাতঙ্কের টিকা পাওয়ার সুযোগ সাধারণ মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এতে একদিকে যেমন চিকিৎসা ব্যয় কমছে, অন্যদিকে প্রাণঘাতী এ রোগ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতাও বাড়ছে। স্থানীয়দের আশা, পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ অব্যাহত থাকলে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে এ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সোমবার বরাইদ ইউনিয়নের পাতিলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রানু (৬৫) জলাতঙ্কের টিকা নিতে হাসপাতালে আসেন। তিনি বলেন, আগে অনেক টাকা খরচ করে এই টিকা নিতে হতো। এখন সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে টিকা পেয়ে খুব উপকার হয়েছে। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এটা বড় সহায়তা।
সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, জলাতঙ্ক অত্যন্ত ভয়াবহ এবং প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী রোগ। তবে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত ও সঠিক নিয়মে ভ্যাকসিন গ্রহণ করলে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে এবং প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে রোগীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো প্রাণী কামড়ালে বা আঁচড় দিলে ক্ষতস্থানটি দ্রুত ক্ষারযুক্ত সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা অপচিকিৎসার আশ্রয় না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভ্যাকসিন নিতে হবে।
