

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার: কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের বাহেরচর থেকে কদমতুলি পর্যন্ত নির্মাণাধীন সেতুটি ঘিরে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন দেখছে আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ। এই সেতু চালু হলে দাউদকান্দির সঙ্গে তিতাস, মেঘনা ও হোমনা উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে আমূল পরিবর্তন। প্রতিদিন হাজারো মানুষের দুর্ভোগ কমবে, সময় বাঁচবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সৃষ্টি হবে নতুন গতি।
বর্তমানে বাহেরচর টু কদমতুলি নৌপথ ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ নদী পারাপার করেন। তিতাস, মেঘনা, হোমনাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা এই নৌপথ। বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় চলাচল করতে হয় সাধারণ মানুষকে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী— সবাইকে পোহাতে হয় সীমাহীন দুর্ভোগ।
এই ভোগান্তি দূর করতে সরকার প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করছে গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি। ইতোমধ্যে সেতুর প্রায় আনুমানিক ৩০ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু স্বপ্নের এই প্রকল্প এখন পড়েছে নতুন শঙ্কায়— গোমতী নদীর ভয়াবহ ভাঙন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গোমতী নদীর দুই পাড়— কদমতুলি ও বাহেরচর অংশে ইতোমধ্যে ভাঙন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত নদীর পাড় ধসে পড়ছে। নদীর স্রোত ও ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে নির্মাণাধীন সেতুটির স্থায়িত্ব নিয়েও দেখা দিতে পারে বড় ধরনের ঝুঁকি। এতে একদিকে যেমন হুমকির মুখে পড়বে কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প, অন্যদিকে ভেঙে যেতে পারে লাখো মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু সেতু নির্মাণ করলেই হবে না, এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। দ্রুত নদী শাসনের কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে স্বপ্নের এই সেতু। বিশেষ করে নদীর দুই পাড়ে জিও ব্যাগ ফেলা এবং গাইডওয়াল নির্মাণ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সেতুর কাজ শেষ হওয়ার আগেই নদী ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় শত কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প একসময় গোমতীর গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।
গোমতীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আজও মানুষ স্বপ্ন দেখে— একদিন এই সেতু বদলে দেবে পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখন সেই স্বপ্ন রক্ষায় প্রয়োজন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ।

