

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে এক সেবাগ্রহীতার স্বজন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনরত একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে ‘দালাল’ বলে গালিগালাজসহ চরমভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ দেখে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও রহস্যজনক কারণে তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা কবিতা রানী সাহার নামে সম্প্রতি ৮২ হাজার ১৪৭ টাকা বকেয়া পরিশোধের একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তবে উক্ত নোটিশে কবিতা রানীর স্বামী বিকাশ সাহার নামের পরিবর্তে তার দেবর প্রকাশ সাহার নাম উল্লেখ করা হয়। সরকারি নথিপত্রে এমন গুরুতর ভুল এবং বকেয়া টাকার হিসাব নিয়ে চরম অসঙ্গতি থাকায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ব্যাংকে যান প্রকাশ সাহা। তার সাথে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে শিক্ষানবিশ আইনজীবী ও সংবাদকর্মী সুলতান কবির সেখানে উপস্থিত হন।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, লিগ্যাল নোটিশের ভুল এবং ঋণের কিস্তির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই শাখা ব্যবস্থাপক অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন। তিনি তথ্যের সঠিক ব্যাখ্যা না দিয়ে উল্টো উপস্থিত সাংবাদিককে লক্ষ্য করে উচ্চস্বরে ‘দালাল’ বলে সম্বোধন করেন। এ সময় তিনি প্রকাশ সাহাকেও চরমভাবে অপদস্থ করেন এবং অফিস কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন অপেশাদার ও কুরুচিপূর্ণ আচরণে সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ হতভম্ব হয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কবিতা রানী সাহা অভিযোগ করে বলেন, "ব্যাংকের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা বিভিন্ন সময় আমাদের বাড়ি গিয়ে কিস্তির টাকা সংগ্রহ করে নিয়ে যেতেন। অথচ সেই টাকা ব্যাংকের মূল হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। উল্টো এখন আমার স্বামীর নামের জায়গায় দেবরের নাম বসিয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আমার দেবর যখন এই ভুলের বিষয়ে জানতে গেলে ব্যাংকের ম্যানেজার তাকে এবং এক সাংবাদিক ভাইকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। তিনি মূলত নিজের অফিসের দুর্নীতি ঢাকতেই এই আক্রমনাত্বক আচরণ করেছেন।
বিষয়টা জানতে দ্বিতীয়বারের মত ৬/৭ জনের সাংবাদিকের একটি দল ওই কর্মকর্তার কাছে গিয়ে ঘটনার সততা জানতে চাইলে তিনি প্রথমে পূর্বের খারাপ ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেন। পরে গতকাল আমার ছেলের ফর্ম ফিলাপের সমস্যার কারণে আমার মাথার ঠিক ছিল না বলে জানান। বাড়ির রাগ অফিসে এসে সাংবাদিক ও সেবা গ্রহীতাদের দেখাবেন এমন প্রশ্নে তিনি আবারও রেগে যান এবং সকল সাংবাদিকদের সাথে গতকালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করেন এবং অফিস থেকে বের হয়ে যেতে যেতে আঙ্গুল তুলে বলেন নোটিশ করা হয়েছে, টাকা পরিশোধ করে যান সবাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকের একজন কর্মচারী জানান, ওই ম্যানেজারের ব্যবহার অত্যন্ত রুক্ষ এবং তিনি প্রায়শই সেবাগ্রহীতা ও সহকর্মীদের সাথে তুচ্ছ কারণে মেজাজ হারান।
বিষয়টি নিয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানান, ভিডিও ফুটেজটি তিনি দেখবেন, দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের অফিস গেছেন, ফিরে ব্যবস্থা নেবেন।
এ বিষয়ে দিনাজপুর পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক জেলা আঞ্চলিক অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভিডিও পাঠান আমরা মৌখিকভাবে তাকে সতর্ক করবো।
অপরদিকে, সেবাগ্রহীতা লিখিত অভিযোগ দিলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি। এখানেও এ কর্মকর্তার দায়সারা মনোভাব প্রকাশ পাওয়া যায়।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনকারী এই কর্মকর্তার দম্ভের আড়ালে বড় ধরণের কোনো আর্থিক জালিয়াতি লুকিয়ে আছে। অবিলম্বে তাকে অপসারণ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারকে হয়রানি থেকে মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
