

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প (গুচ্ছ গ্রাম)-এর একটি ঘর অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর আশ্রয়ণপ্রকল্পের সভাপতি মো. আতোয়ার মন্ডল ও তার স্ত্রী মোসা. রেহেনা পারভিনের দিকে। ঘটনাটি ঘটেছে বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের দাহাকান্দি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাহাড়পুর ইউনিয়নের সবদুলপুর গ্রামের বাচ্চুর স্ত্রী মোছা. শাপলা পারভিন তার নামে বরাদ্দপ্রাপ্ত একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাস করছেন। পাশাপাশি সম্প্রতি তিনি অর্থের বিনিময়ে একই গুচ্ছ গ্রামের আরও একটি সরকারি ঘর ক্রয় করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই ঘরটি তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি মো. আতোয়ার মন্ডল ও তার স্ত্রী মোসা. রেহেনা পারভিনের কাছ থেকে এক লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকার বিনিময়ে কিনেছেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, কাগজে-কলমে আশ্রয়ণপ্রকল্পের সভাপতি মো. আতোয়ার মন্ডল হলেও বাস্তবে প্রকল্পের ক্ষমতা ও প্রভাব খাটান তার স্ত্রী মোসা. রেহেনা পারভিন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর বিক্রি করেছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
এ বিষয়ে মোছা. শাপলা পারভিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “গুচ্ছ গ্রামের সভাপতি আতোয়ার মন্ডলের স্ত্রীর কাছ থেকেই ঘরটি কিনেছি।” কত টাকায় কিনেছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, “এক লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকায়।”
আশ্রয়ণ প্রকল্পের অন্যান্য বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে আরও অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়। তারা জানান, প্রকল্পে একটি পুকুর থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো সরকারি অনুদান পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ উপজেলার অন্যান্য আশ্রয়ণ প্রকল্প নিয়মিত সরকারি অনুদান ও সহযোগিতা পাচ্ছে। এ বিষয়ে সভাপতিকে জানানো হলে তিনি বলেন, “আমি যাইনি বলেই অনুদান পাইনি।” বাসিন্দাদের মতে, এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অস্পষ্ট বক্তব্য।
এ বিষয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি মো. আতোয়ার মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি বাড়িতে না থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সভাপতির স্ত্রী মোসা. রেহেনা পারভিন জানান, তিনি বাইরে আছেন। নিজের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি সভাপতির স্ত্রী, তার সব কাজ আমিই করি।” ঘর বিক্রির বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “হ্যাঁ, এক লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘরটি বিক্রি করেছি।”
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইশরাত জাহান ছনির সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং সরকারি আশ্রয়ণপ্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হোক।
