

মাসুদ রানা, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় আগে সংঘটিত একটি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জামায়াত নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি হিসেবে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি আরিফুল ইসলাম খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের কায়েমপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং আবদুল আলীমের ছেলে। তিনি খামারপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
খানসামা থানা সূত্রে জানা যায়, অভিযান চালিয়ে আরিফুল ইসলামকে আটক করে থানায় আনা হয়। পরে খানসামা থানার মামলা নং ৪/২৫–এর এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এরপর পুলিশি প্রহরায় তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি রাতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে এক জামায়াত নেতার বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর করানো হয় এবং পরে তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে নির্যাতন ও একাধিক মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও অন্তত ছয়জন জামায়াত নেতা-কর্মীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে।মামলাটিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সফিউল আযম চৌধুরী লায়নসহ মোট ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে।
এ বিষয়ে খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাছেত সরদার জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ‘ডেভিল হান্ট অপারেশন ফেজ-২’ চলমান রয়েছে। এই অভিযানের আওতায় নিয়মিতভাবে মামলার আসামি ও সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
